আর পাঁচটা ২৬ জানুয়ারির মতো ছিল না এই বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস! সকালে খবর আসে, প্রিয়জন আগুনের কবলে। টিভিতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা…বেলা যত গড়ায়, ততই উদ্বেগ বাড়ে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা জানার পরেই বাড়ির লোক যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু মোবাইল ‘সুইচ অফ’, কোনও খোঁজখবর নেই। দুশ্চিন্তা বাড়ে পরিবারের সদস্যদের মনে। বিকেলের পর প্রশাসনের আধিকারিকেরা নিখোঁজ পরিবারের কাছে যায়। পাশে থাকার আশ্বাস দেয়।
advertisement
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের দগ্ধ দেহাংশের হদিশ মিলেছে বলে জানাল প্রশাসন৷ পাশাপাশি, বেড়েছে নিখোঁজের সংখ্যা৷ পুলিশ সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ দেহগুলি সম্পূর্ণ ঝলসে গিয়েছে বলে শনাক্ত করার পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে মধ্যে ১৭ জন কর্মী ডেকরেটার্স সংস্থার এবং বাকি ৩ জন মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার৷ যে সব পরিবার এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের তথ্য লিখিয়েছেন, তাঁদের সকলকে মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে DNA দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে পুলিশের তরফে। DNA পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে দেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ ইএম বাইপাসের কাছে নরেন্দ্রপুরের নাজিরাবাদে শুকনো খাবারের গুদামে বিধ্বংসী আগুন লাগে। আনন্দপুরের নাজিরাবাদের ওই গুদামে মূলত শুকনো, প্যাকেটজাত খাবার মজুত করা থাকত। মজুত রাখা হত ঠান্ডা পানীয়ের বোতলও। কী ভাবে সেখানে আগুন লাগল, এখনও স্পষ্ট নয়।
মনে করা হচ্ছে, গুদামের ভিতরে থাকা কর্মীদের গ্যাসের সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে এই ঘটনা ঘটে৷ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন৷ পর পর দু’টি গুদামে আগুন লেগেছিল। মধ্যরাতে গুদামে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে কয়েক জন দমকলকে খবর দেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে আগুন লাগে একটি অনলাইন খাবার সরবরাহ করা সংস্থার গোডাউনে। সেখান থেকে পাশের ডেকরেটার্সের গোডাউনে। নরেন্দ্রপুরে পৌঁছয় দমকলের গাড়ি। একে একে চোদ্দটা। অভিযোগ, সরু রাস্তার কারণে ভেতরে ঢুকতে বেগ পেতে হয়।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক জানিয়েছেন, ” অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন ব্লক মিলিয়ে প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ। প্রশাসন সূত্রে ব্লকের বিডিও এবং মহাকুমা শাসক নিখোঁজ পরিবারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। নিখোঁজ পরিবারের পাশে রয়েছে প্রশাসন। নিখোঁজের মধ্যে রয়েছে পাঁশকুড়া ব্লকের ৪জন, তমলুক ব্লকের ৬ জন এবং ময়না ব্লকের ২ জন। ঘটনাস্থলে জেলা থেকে তিনজন অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকার পুলিশ এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ বলে চিহ্নিত করা গিয়েছে। জেলার আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছে কিনা সেই বিষয়েও খোঁজখবর রাখছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।





