দেবীডাঙ্গার বাসিন্দা রাজা কুমার ও এমডি মহম্মদ ইমরান, দুই ভাই মিলে একটি সাধারণ টোটোকে রূপ দিয়েছেন অভিনব দু’তলা মিনি রেস্তোরাঁয়। চলন্ত এই খাবারের দোকানের ছাদেই একসঙ্গে প্রায় আটজন বসে খাওয়ার সুযোগ—যা শহরে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।
চাইনিজ পদ, মোমো, চা, কফি—সব মিলিয়ে জমজমাট মেনু নিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। প্রথমে দেবীডাঙ্গা এলাকায় চালু হলেও জনপ্রিয়তার জেরে এখন সেটি সরিয়ে আনা হয়েছে ব্যস্ত দার্জিলিং মোড়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন শুধু খাওয়ার জন্য নয়, বরং এই অভিনব কনসেপ্ট কাছ থেকে দেখার জন্যও।
advertisement
এমডি মহাম্মদ ইমরান জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরূপ একটি ধারণা দেখে তাঁর মাথায় আসে এই পরিকল্পনা। “টোটোকে যদি অন্যভাবে ব্যবহার করা যায়—এই ভাবনা থেকেই শুরু। আইডিয়া মাথায় আসতেই কাজ শুরু করি,” বলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের নিরলস পরিশ্রম এবং প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার বিনিয়োগে তৈরি হয় এই ব্যতিক্রমী রেস্তোরাঁ।
টোটো দেখতে তিন চাকার হলেও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভারসাম্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত ছয়টি জ্যাক বসানো হয়েছে। রয়েছে রানিং ওয়াটারের সুবিধা। রাতের বেলায় রঙিন আলোয় সেজে ওঠে গোটা গাড়ি, যা দূর থেকেই নজর কাড়ে পথচারীদের।
আরও পড়ুন- রোদে পোড়া শরীর, মুখে বাঁশি,খাকি পোশাকের মায়ায় মেমারির ট্রাফিক সামলাচ্ছেন আনোয়ার
গ্রাহকদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। এক ক্রেতা এমডি কারিমের কথায়, “টোটোতে চড়েছি অনেকবার, কিন্তু টোটোর ছাদে বসে খাওয়া—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য!” শহরের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশেও যে নতুন ভাবনা ও সাহসী উদ্যোগ আলাদা পরিচিতি এনে দিতে পারে, সেই বার্তাই যেন দিলেন এই দুই তরুণ উদ্যোক্তা।





