জলপাইগুড়ি শহরের ইতিহাস ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় এই রেলস্টেশনের নয়া রূপের কাজ প্রায় শেষের পথে। বিধানসভা ভোটের আগেই আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে যাত্রীদের জন্য চালু হয়ে যেতে পারে বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির আদলে সাজানো জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের নতুন ভবন।
আরও পড়ুনঃ গরু চরানোর সময় শিয়ালের কামড়! জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার পরেও মহিলার মৃত্যু, পুরুলিয়ায় আতঙ্ক
advertisement
শুধু তাই নয়, কামাক্ষ্যা–হাওড়া রুটের বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের স্টপেজও পেতে চলেছে এই রোড স্টেশন। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। ইতিমধ্যেই স্টেশনে ঢোকার রাস্তা চওড়া করার কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। বৈকুন্ঠপুর রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী ‘সিংহ দুয়ার’-এর আদলে তৈরি হচ্ছে সুবিশাল গেট, যা চোখে পড়ার মতো আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
স্টেশনের সামনে ছোট ও বড় গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিং ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই স্টেশনের ভিতর আধুনিক বসার জায়গা, সবুজে ঘেরা ছোট পার্ক, ক্যান্টিন ও বাতানুকূল ওয়েটিং রুমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মায়েদের জন্য থাকছে আলাদা ‘ব্রেস্ট ফিডিং’ রুম— যা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এছাড়া পুরনো ফ্লাইওভার ভেঙে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন আধুনিক ফ্লাইওভার, ফলে যান চলাচলও হবে আরও মসৃণ। জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় জানান, দ্রুতই কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মার্চেই নয়া স্টেশন ভবনের উদ্বোধন হতে পারে। শুধু যাতায়াত নয়, এই নয়া স্টেশনে ইতিহাসকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জলপাইগুড়িতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধীর আগমনের স্মৃতি এবং শহরের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরতে তৈরি হচ্ছে একটি ছোট মিউজিয়াম। নতুন এই রূপে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন যে শহরের গর্ব হয়ে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য।





