সরকারের নতুন নিয়ম কী কী?
ভারতে ড্রোন ওড়ানোর নিয়মকানুন নির্ধারণ করে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)। ২০২১ সালের ড্রোন নিয়ম অনুসারে, ২০২৬ সালেও মূল নিয়মগুলো মূলত একই রয়েছে, তবে এখন সেগুলো আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘দেখেই জলে ঝাঁপ দিই, নিজে ওঁর পেট থেকে…’, রাহুলকে উদ্ধার করেন এই ভগীরথই! ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানুন
advertisement
রেজিস্টার: ২৫০ গ্রামের বেশি ওজনের প্রতিটি ড্রোন অবশ্যই DGCA-এর ডিজিটাল স্কাই ওয়েবসাইটে রেজিস্টার করতে হবে। এর জন্য একটি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (UIN) পাওয়া যাবে।
লাইসেন্স: ছোট ড্রোন (ন্যানো) শখের জন্য লাইসেন্স ছাড়াই ওড়ানো যায়, কিন্তু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (ফি সাপেক্ষে) একটি রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট (RPC) বা রিমোট পাইলট লাইসেন্স (RPL) থাকা বাধ্যতামূলক। ২ কেজির বেশি ওজনের ড্রোনের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণ: DGCA-অনুমোদিত প্রশিক্ষণ সংস্থা (RPTO) থেকে ৫-৭ দিনের একটি কোর্স করতে হয়। এর মধ্যে তত্ত্বীয় (নিরাপত্তা, নিয়মকানুন, আকাশসীমা) এবং ব্যবহারিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। কোর্স শেষে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে একটি RPC পাওয়া যায়, যা ১০ বছরের জন্য বৈধ।
যোগ্যতা: ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স, দশম শ্রেণি পাস, সুস্বাস্থ্য এবং ভারতীয় নাগরিক হতে হবে।
আকাশসীমা: সবুজ, হলুদ এবং লাল অঞ্চলে উড্ডয়নের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে। অনুমতি ছাড়া উচ্চ উচ্চতায় ওড়ানো নিষিদ্ধ।
প্রশিক্ষণ ফি সাধারণত ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে (কিছু এলাকায় এর চেয়েও কম)। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত।
ড্রোন পাইলট হয়ে কীভাবে অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে?
ড্রোন পাইলটদের জন্য অনেক চমৎকার সুযোগ রয়েছে: বিয়ে এবং অনুষ্ঠানের ফটোগ্রাফি: বিয়েতে আকাশ থেকে তোলা ছবির চাহিদা অনেক বেশি। একটি বিয়ের জন্য ১০,০০০ টাকা থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেওয়া যেতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করা যেতে পারে।
খামারে ড্রোন দিয়ে স্প্রে করা: সরকার কৃষকদের ভর্তুকি দিচ্ছে। স্প্রে করার জন্য প্রতি একরে ৩০০-৫০০ টাকা পারিশ্রমিক নেওয়া যেতে পারে। বড় খামারগুলো দিনে ২০-৩০ একর জমিতে কাজ করে ভাল আয় করা যেতে পারে। এটি গ্রামীণ এলাকার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা।
আরও সুযোগ: রিয়েল এস্টেট ফটোগ্রাফি, ফিল্ম/ওয়েব সিরিজের শট, সোলার প্ল্যান্ট পরিদর্শন, ম্যাপিং, সার্ভে এবং ডেলিভারি পরিষেবা। সরকারি প্রকল্প এবং এগ্রি-টেক কোম্পানিগুলোও নিয়োগ করে।
আয়ের আনুমানিক হিসাব (২০২৬): নতুন পাইলট: প্রতি মাসে ২০,০০০ টাকা থেকে ৪০,০০০ টাকা।
অভিজ্ঞ বা ফ্রিল্যান্সার: প্রতি মাসে ৫০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা
বিশেষায়িত কাজ (যেমন স্প্রে করা বা সিনেমাটিক শট): ১ লাখ টাকার বেশি
অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের ড্রোন কিনে পরিষেবা দিয়ে থাকেন। ব্যবসা শুরু করার জন্য ১-২ লাখ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
কীভাবে শুরু করা যেতে পারে?
DGCA-অনুমোদিত কোনও প্রতিষ্ঠানে ৫-৭ দিনের একটি কোর্সে যোগ দিতে হবে।
একটি RPC সার্টিফিকেট অর্জন করতে হবে এবং ড্রোনটি রেজিস্টার করতে হবে।
একটি ভাল ড্রোন কিনতে হবে (দাম ৫০,০০০-২ লাখ টাকা থেকে শুরু)।
স্থানীয়ভাবে মার্কেটিং করতে হবে—ওয়েডিং প্ল্যানার, কৃষক গোষ্ঠী বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
ভারতে ড্রোন শিল্প দ্রুতগতিতে বাড়ছে। সরকার PLI প্রকল্প এবং ভর্তুকি দিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। কেউ যদি তরুণ প্রজন্মের হয় এবং নতুন কিছু চেষ্টা করতে চায়, তবে ড্রোন পাইলট হওয়া একটি দারুণ বিকল্প। নিজের শখকে আয়ে পরিণত করার এটাই উপযুক্ত সময়। এর জন্য DGCA-এর ওয়েবসাইট দেখা যেতে পারে অথবা নিকটতম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
