২০২০ টোকিও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বজরং পুনিয়া তাঁকে ভারতীয় কুস্তির ‘পিতৃসম ব্যক্তিত্ব’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ পদকজয়ী যোগেশ্বর দত্ত বলেন, মেস্তভিরিশভিলির দিকনির্দেশনা ছাড়া ভারতীয় কুস্তিগিররা অলিম্পিকে পদক জিততে পারতেন না। মেস্তভিরিশভিলি গত বছর ৮১ বছর বয়সে প্রয়াত হন।
“যখনই সুশীল, যোগেশ্বর এবং আমার নাম উচ্চারিত হয়, তখন তাঁর নামও নেওয়া উচিত। ভারতের অলিম্পিক পদক জয়ের পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে,” বলেছেন বজরং। প্রায় ১৫ বছর ধরে মেস্তভিরিশভিলির কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়া যোগেশ্বর দত্ত ভারতীয় কুস্তিগিরদের কারিগরি দক্ষতা উন্নত করার কৃতিত্ব তাঁরই বলে জানান।
advertisement
যোগেশ্বর বলেন, “তিনি ভারতে আসার পর কারিগরি সমস্যাগুলোর সমাধান হয়। কী করতে হবে এবং কেন করতে হবে—এই বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়”। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করতাম, তাঁর জীবদ্দশাতেই দ্রোণাচার্য পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। তবে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে পদ্মশ্রী প্রদান করার জন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”
বজরং একজন পরিশ্রমী কোচের স্মৃতিচারণা করেন, যাঁর নীতি ছিল ‘কুস্তিগিররাই আগে’। “প্রয়োজনে তিনি নিজেই কুস্তির ম্যাট মেরামত করতেন। কুস্তিগিরদের প্রতি তাঁর যত্ন কতটা ছিল, তা থেকেই বোঝা যায়। তিনি সব কুস্তিগিরকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতো দেখতেন। কেউ পদক জিতল কি না, তা নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না—একজন বাবা যেমন তাঁর সন্তানদের সঙ্গে আচরণ করেন, ঠিক তেমনই করতেন। এমন কোচ খুব কমই আছেন যাঁরা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও কুস্তিগিরদের খেয়াল রাখেন।” বলেন বজরং।
“ছোট ছোট বিষয়েও তাঁর নজর পড়ত। যেমন, শীতে আমরা শুধু চপ্পল পরে থাকলে তিনি বিরক্ত হতেন এবং আমাদের মোজা পরতে বলতেন। তাঁর কারিগরি জ্ঞান ছিল আধুনিক এবং তিনি সব সময় আপডেট থাকতেন। আমি তাঁর সঙ্গে বিদেশেও গিয়েছি এবং দেখেছি ইউরোপের দেশগুলোর কুস্তিগিররা তাঁকে কতটা সম্মান দিত,” বলে বজরং।
যোগেশ্বর স্মরণ করেন মেস্তভিরিশভিলির উদারতা ও ন্যায়পরায়ণতার কথা। “প্রশিক্ষণের পর আমাদের জার্সি ভিজে গেলে, ঠান্ডা লেগে যাওয়া থেকে বাঁচাতে তিনি আমাদের নিজের শুকনো জার্সি দিতেন। শীতকালে তিনি তাঁর ট্র্যাকসুটও দিয়ে দিতেন। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণের সময়সূচি—সবকিছুরই তিনি খেয়াল রাখতেন। তিনি সিনিয়র ও জুনিয়র কুস্তিগিরের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করতেন না। তাঁর একটাই দাবি ছিল—নিবেদন ও নিষ্ঠা,” স্মৃতিচারণা করেন যোগেশ্বর।
আরও পড়ুন- ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গ! সেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ট্রফি ছোঁয়া হল না কোচ সৌরভেরও
কুস্তিগিরদের মধ্যে ‘লাড্ডু’ নামে জনপ্রিয় মেস্তভিরিশভিলি ২০০৩ সালে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় কুস্তি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এরপর রেসলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া তাঁর চুক্তি বাড়ায়নি। তিনি মডেল টাউনের বিখ্যাত ছত্রসাল স্টেডিয়াম আখড়ায় কুস্তিগিরদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন, যেখানে তিনি ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের রৌপ্যপদকজয়ী রবি দাহিয়াকেও কোচিং করিয়েছিলেন।
