তাঁর পরিসংখ্যান অত্যন্ত চমকপ্রদ। ২৮ বছর বয়সী পাক স্পিনার উসমান তারিক মাত্র ৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ১১টি উইকেট নিয়েছেন, ইকোনমি রেট ওভারপ্রতি ছয় রানেরও কম—যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সব মিলিয়ে ৪২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ৭০টি উইকেট শিকার করেছেন। এই দুর্দান্ত পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ধীরগতির উইকেটে শক্তিশালী ভারতীয় দলের বিপক্ষে তিনি ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন।
advertisement
পাকিস্তান তাঁকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে আসছে এবং তিনি প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। এক ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটাররা তাঁকে খেলতে স্পষ্টতই সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁরা উসমানের গতি পরিবর্তন বুঝতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। কারণ তিনি ছন্দ বা গতি বদলের সাধারণ কোনও ইঙ্গিত না দিয়েই ভ্যারিয়েশন করেন।
আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, তারিক তাঁর প্রত্যাবর্তনের কৃতিত্ব দিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। প্রায় ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০১৬ সালে ‘ধোনি’ সিনেমা দেখে তিনি নতুন করে অনুপ্রাণিত হন।
“আমি ক্রিকেটে নামডাক করার স্বপ্নটা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু একদিন ধোনি সিনেমা দেখলাম, এবং এটি আমাকে বিশ্বাস করাল যে আমি ও এটা করতে পারি,” বললেন তারিক। তিনি দুবাইয়ে একজন সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখান থেকে আজ জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন তিনি। ২০টি উইকেট তুলে নেন। সেই পারফরম্যান্স পাকিস্তান জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার পথ খুলে দেয়। তারিক বলেন, “গত বছর আমার বিয়ের ব্যস্ততার মধ্যে কোচ আমাকে পাকিস্তান দলে নির্বাচনের কথা জানান। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম রসিকতা করছেন।”
আরও পড়ুন- IND vs PAK: ইশান কিশানের হাত থেকে রেহাই পাবে না উসমান তারিক! তৈরি মাস্টার প্ল্যান
কলম্বোতে ভারতের পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে, তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে তীক্ষ্ণ নজর আরও বাড়ছে। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন তাঁর লোডিং অ্যাকশনের বিরতি “অবৈধ” আখ্যা দিয়েছেন।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তারিক ব্যাটারের ট্রিগার মুভমেন্ট নষ্ট করার জন্য পজ মুভ রাখেন। কিন্তু ভারতীয় স্পিনার আর আশ্বিন বলেছেন, এমন বিরতি আইসিসির নিয়ম ভঙ্গ করে না। উল্লেখ্য, অনেকেই জানেন না, খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারান তারিক। তার পর দুবাইয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে পেঁয়াজ কাটার কাজ করতেন। এর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশেও ফিরেছিলেন। তার পর আবার কাজের খোঁজে যান দুবাই
