তিনি এখনও খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি। ফলে ঘরে ঘরে পরিচিত নাম নন। তবে বিপক্ষ দলের পরিকল্পনা বদলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট খেলেছেন পাক স্পিনার উসমান তারিক। প্রথম চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১১টি উইকেট, ইকোনমি ছয়ের নিচে, গড় আটের নিচে—এটা শুধু ভাল শুরু নয়, তিনি যে প্রতিপক্ষের মুঠো থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিতে পারেন তার প্রমাণ।
advertisement
তারিকের আসল অস্ত্র রহস্য স্পিন নয়। গতি নিয়ন্ত্রণ। তিনি রান-আপের সময় বিরতি নেন। স্টপ-স্টার্ট ধরণের ছন্দ, যা ব্যাটারের ট্রিগার মুভমেন্টে বিঘ্ন ঘটায়। ব্যাটার চায় দ্রুত লেন্থ বুঝে নিতে। সেই মতো নির্দিষ্ট শট খেলার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু যে বোলার ডেলিভারি না বদলে রিলিজের সময় বদলে দেন, তিনি ব্যাটারকে ক্রিকেটের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চলে ঠেলে দেন। আর সেখানেই ভুল শটের জন্ম হয়।
তারিক একজন ডানহাতি অফ-স্পিনার, আর ভারতের বর্তমান ব্যাটিং লাইন-আপে বাঁহাতিদের প্রাধান্য বেশি। কাগজে-কলমে বাঁহাতিদের অফ-স্পিনের বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়ার কথা। স্টক বল দূরে সরে যায়, ফলে এজের সম্ভাবনা বাড়ে, আর সামান্য বৈচিত্র্য যোগ হলেই ব্যাটারের মনে শট খেলার দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়।
১৫ ফেব্রুয়ারির হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে সামনে রেখে রহস্য স্পিনার উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে চলা বিতর্ক থামাতে এগিয়ে এলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা।
প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের এই ম্যাচটি কিছু সময় মাঠের বাইরের আলোচনা-সমালোচনায় ঢেকে গিয়েছিল, তবে এখন আবার মনোযোগ পুরোপুরি ক্রিকেটে ফিরেছে। তবুও তারিকের অস্বাভাবিক বোলিং মেকানিক্স নিয়ে আলোচনা থামেনি, বিশেষ করে এমন এক উইকেটে যেখানে স্পিনাররা সহায়তা পেতে পারেন। আঘা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পাকিস্তানের দৃষ্টিতে এখানে বিতর্কের কিছু নেই।
আরও পড়ুন- Ind vs Pak ম্যাচে ‘ইনি’ হবেন কি তুরুপের তাস, নাকি ‘সাত্তে পে সাত্তা’ ধাঁচেই পাক বধ
“আইসিসি দু’বার পরীক্ষা করেছে এবং ক্লিয়ার করেছে। এত আলোচনা কেন হচ্ছে আমি জানি না। যাই হোক, এসব বিষয় ওকে খুব একটা বিচলিত করে না। এসবে ও এখন অভ্যস্ত,” প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে বলেন আঘা।
