এই আবেদন দাখিল করেছিলেন আইনজীবী রীপক কংসাল। এর আগে তিনি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, যেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এর পর দিল্লি হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। তার দাবি ছিল, বিসিসিআই যেন ক্রিকেট দলের জন্য ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম’ বা ‘টিম ইন্ডিয়া’ শব্দগুলোর ব্যবহার বন্ধ করে। একই সঙ্গে দূরদর্শন ও অল ইন্ডিয়া রেডিও পরিচালনাকারী সংস্থা প্রসার ভারতীকেও ‘টিম ইন্ডিয়া’ শব্দ ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
advertisement
হাই কোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী তার আবেদন খারিজ করে দেন। সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীর পাশাপাশি হাই কোর্টকেও ভর্ৎসনা করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে?
আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “আপনারা ঘরে বসেই একের পর এক আবেদন দাখিল করতে শুরু করেন। এতে সমস্যাটা কী? ন্যাশনাল স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালের জন্যও একটি নোটিফিকেশন রয়েছে, যেখানে যোগ্য সদস্যরা আছেন। অকারণে আদালতের ওপর বোঝা চাপাবেন না।”
এ বিষয়ে বিচারপতি বাগচী বলেন, “যদি এই মামলায় কেন্দ্র সরকার সামনে আসত, তা হলে হয়তো বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠতে পারত। কিন্তু এখানে তো বিসিসিআই ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছে।” প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দিল্লি হাই কোর্টের রায়কেও ভুল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। হাই কোর্টের উচিত ছিল জরিমানা আরোপ করা। নইলে সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের অর্থহীন আবেদন কীভাবে আটকানো যাবে?”
আইনজীবী রীপক কংসাল তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন, বিসিসিআই তাদের দলের জন্য ‘টিম ইন্ডিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় পতাকাও ব্যবহার করছে, যা তাঁর মতে আইনের পরিপন্থী। তিনি আরও দাবি করেছিলেন, বিসিসিআইয়ের পরিচালনাধীন দলটিকে প্রসার ভারতী ভুলভাবে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
আরও পড়ুন- আইসিসির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট শুধু এক দেশের, বিপক্ষে সবাই! ভোটাভুটিতে কাগুজে বাঘ ঢাকা
তাঁর যুক্তি ছিল, বিসিসিআই তামিলনাড়ু সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত একটি বেসরকারি সংস্থা। বিসিসিআই জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন কোড, ২০১১ অনুযায়ী স্বীকৃত কোনও ন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশন (এনএসএফ) নয়। তাই তিনি দাবি করেছিলেন, আইনি স্বীকৃতি ছাড়া বিসিসিআই-সহ কোনও বেসরকারি সংস্থাকে ‘টিম ইন্ডিয়া’ নামে উপস্থাপন করা থেকে বিরত রাখা হোক।
