আগামী ২৪ জানুয়ারি ঝাড়খণ্ডের রাঁচির প্রভাত তারা ময়দানে ৬০ তম ন্যাশনাল ক্রসকান্ট্রি প্রতিযোগিতায় খেলতে চলেছে সে। ওয়েস্টবেঙ্গল অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, ওই প্রতিযোগিতায় দুই কিলোমিটার দৌড়ে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে গঙ্গাধর। অভাব অনটনের মধ্যে এই জাতীয় স্তরে খেলা তার জীবনে অনেকখানি প্রভাব ফেলতে চলেছে। দিনমজুরি করে কোনওরকমে সংসার চালান গঙ্গাধরের মা ফুচি মাহাতো। গঙ্গাধরের নেই কোনও স্পোর্টস সু। কী ভাবে এতখানি আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে রাঁচিতে রাজ্যের হয়ে সে খেলতে যাবে সেই নিয়েই দুশ্চিন্তায় ভুগছে গঙ্গাধর ও তার পরিবার। কারণ রাজ্য অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে রাঁচি যাওয়ার ট্রেনের টিকিট, যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার যাবতীয় খরচই বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলিটকেই।
advertisement
এ বিষয়ে গঙ্গাধর মাহাত বলেন, ছোটবেলা থেকেই অ্যাথলেটিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তার বড় হয়ে ওঠা। কিন্তু তার আর্থিক পরিস্থিতি সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও সে লড়াই করে চলেছে। আগামী দিনে দেশের হয়ে খেলতে চায় সে।
এ বিষয়ে গঙ্গাধর মাহাতোর মা ফুচি মাহাতো বলেন, সরকারিভাবে যদি কোনও সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে তাদের অনেকটাই উপকার হবে। অথবা তার ছেলেকে যদি কোনও সরকারি চাকরি ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গঙ্গাধর মাহাতোর কোচ অনন্ত মাহাত বলেন, একজন অ্যাথলিটের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সঠিক ডায়েট। যা গঙ্গাধরের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। মার ভাত খেয়েই প্রতিনিয়ত প্রতিক্ষণ চলে গঙ্গাধরের। এছাড়াও যে জুতোর প্রয়োজন হয় তাও নেই তার কাছে। যদি কোনও সংস্থা গঙ্গাধরের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আগামী দিনে ন্যাশনাল ও ইন্টারন্যাশনাল খেলারও যোগ্যতা রাখে সে।
অদম্য ইচ্ছা ও মনের জোরের কাছে কোনও কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাই দারিদ্রতাকে জয় করে প্রতিনিয়ত জীবন সংগ্রামী লড়াই করে চলেছে পুরুলিয়ার ভূমিপুত্র গঙ্গাধর। Sharmistha Banerjee





