হুইলচেয়ার ফেন্সিংয়ের মতো কঠিন খেলায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করে ইতিমধ্যেই নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন আহম্মদ। শুধু রাজ্যেই নয়, জাতীয় স্তরেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। রাজস্থানে অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিযোগিতায় চারটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে বাংলা তথা নিজের এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছেন এই সংগ্রামী যুবক।
advertisement
অতি সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম আহম্মাদের। সংসারে বৃদ্ধ বাবা-মা, দাদা ও বোনের দায়িত্বও তার কাঁধেই। জীবিকার তাগিদে কখনও ইটভাটায় কাজ, কখনও মাছ ধরা বা ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালাতে হয়েছে তাকে। তবুও স্বপ্ন থেকে সরে যাননি একটুও। ২০১৫ সালে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় পা হারান আহম্মদ। জীবনের সেই কঠিন মুহূর্ত অনেককেই ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু তাকে পারেনি। বরং নতুন করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ভ্যান চালানো, সাইকেল চালানো থেকে শুরু করে পড়াশোনা—সবকিছুই চালিয়ে গিয়েছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে।
শরীরকে ফিট রাখা, সাঁতার শেখা এবং ফেন্সিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং খেলায় পারদর্শী হয়ে ওঠার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন আহম্মাদ। তার এই অদম্য লড়াই আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। এর আগেও আহম্মাদ গাজীর নেতৃত্বে কেরলে আয়োজিত ১২তম ন্যাশনাল ড্রাগন বোট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ ও ২০০ মিটার প্যারা ড্রাগন বোট রেসে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ধারাবাহিক সাফল্যের পথে এগিয়ে চলা এই ক্রীড়াবিদের লক্ষ্য এখন দেশের মঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জন।
সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে প্রতিকূলতাকে জয় করে আহম্মাদ গাজী প্রমাণ করে দিয়েছেন—ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনও বাধাই শেষ কথা নয়। এখন তার চোখ জাতীয় মঞ্চে সোনার স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে তিনি এগিয়েই চলেছেন অদম্য সাহস নিয়ে।
Julfikar Molla





