আর পাঁচটা দিনের মতো এদিন তাঁদের সময় কাটেনি ঘরের কাজে। বরং ফুটবল পায়ে তাঁরা মাঠ মাতালেন। ভগবতী, রাখী, ময়না, সুলেখা, নিলিমাদের মতো বহু প্রান্তিক মহিলা জীবনে প্রথমবার মাঠে নেমে খেলাধুলার আনন্দ উপভোগ করলেন। গোলের লড়াই, দৌড়ঝাঁপ আর সতীর্থদের উৎসাহে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ।
এই মহিলাদের অনেকেই সারা দিন সংসার, চাষের কাজ ও পরিবারের দায়িত্ব সামলান। অভাব-অনটনের কারণে খেলাধুলার সুযোগ কখনও পাননি। কিন্তু সেদিন সাহস করে তাঁরা মাঠে নামেন এবং নিজেদের শক্তি ও সক্ষমতার পরিচয় দেন। ফুটবল খেলার মাধ্যমে তাঁদের আত্মবিশ্বাস যে কতটা বেড়েছে, তা স্পষ্ট ছিল তাঁদের মুখে।
advertisement
স্থানীয় একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। আয়োজক কমিটির সদস্য রুমা সরকার বলেন, খেলাধুলা নারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। দলগত কাজ, নেতৃত্ব এবং আত্মনির্ভরতার শিক্ষা দেয়। তিনি আরও বলেন, যখন দেশের মেয়েরা বিশ্বকাপ জিততে পারে, তখন সুন্দরবনের মহিলারাও মাঠ কাঁপাতে পারবেন—এই বিশ্বাস থেকেই এই উদ্যোগ।
মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও ছিল বিপুল উৎসাহ। গ্রামের পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ সবাই মহিলাদের খেলায় হাততালি দিয়ে উৎসাহ দেন। খেলোয়াড় তনিমা হালদার ও সরমা জানারা জানান, জীবনে কখনও ভাবেননি ফুটবল খেলবেন। এই ম্যাচ শুধু একটি খেলা নয়, বরং গ্রামীণ নারীদের জীবনে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথ খুলে দিল।





