পাকিস্তান যেখানে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েই গেল, ভারত প্রায় ৫০ বছর আগেই এমন নজির স্থাপন করেছিল। ৩ নভেম্বর ১৯৭৮ সালে ভারত ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ ছেড়ে দেয়। এমন ঘটনা আর মাত্র একবার ঘটেছে। ২০০১ সালে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের জন্য ৬১ বলে মাত্র ৪ রান দরকার ছিল। সেই সময় দর্শকরা মাঠে ঢুকে পড়লে ইংল্যান্ড ম্যাচ না খেলেই পাকিস্তানকে বিজয়ী ঘোষণা করে।
advertisement
১৯৭৮ সালে ভারত কেন ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছিল?
১৯৭৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচে ভারত জয়ের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতীয় অধিনায়ক বিশন সিং বেদি ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানি আম্পায়ারদের বিরুদ্ধে আগেও ঘরের দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অভিযোগ ছিল। সেদিন সাহিওয়ালে ঠিক সেটাই দেখা যায়। পাকিস্তান ৪০ ওভারে ২০৫/৭ রান তোলে। জবাবে ভারত ৩৭ ওভারে ১৮৩/২ রান করে ফেলে। ভারতের জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল ১৮ বলে ২৩ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট।
পাকিস্তানি বোলারদের ইচ্ছাকৃত ওয়াইড বল:
পাকিস্তানের পক্ষে বল করতে আসেন সরফরাজ নবাজ। তাঁর ৩৮তম ও ৪০তম ওভার করার কথা ছিল, আর ৩৯তম ওভার করার কথা ছিল ইমরান খানের। তার আগে সুরিন্দর অমরনাথ ৬২ রান করেছিলেন, অংশুমান গায়কোয়াড় খেলছিলেন ৭৮ রানে এবং অপর প্রান্তে ছিলেন গুণ্ডাপ্পা বিশ্বনাথ। ভারতের জয় প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়।
পাকিস্তানের কৌশল কী ছিল?
সরফরাজ একটি বাউন্সার ছোড়েন, যা গায়কোয়াড়ের নাগালের বাইরে ছিল। বলটি সরাসরি উইকেটকিপার ওয়াসিম বারির হাতে যায়। গায়কোয়াড় সেটিকে ওয়াইড বলে মনে করলেও আম্পায়ার কোনো সংকেত দেননি। পরের দুই বলেও একই ঘটনা ঘটে। টানা চতুর্থ বলেও যখন একই পরিস্থিতি দেখা গেল, তখন সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় ব্যাটারদের নাগালের বাইরে বল করছিল এবং আম্পায়াররা ওয়াইড দিতে রাজি ছিলেন না।
আরও পড়ুনঃ IND vs PAK: সব নাটক শেষ! অবশেষে মাথা নত করল পাকিস্তান! কীসের ভয়ে ইউটার্ন? বড় আপডেট
ভারত মাঝপথে ম্যাচ ছেড়ে দেয়:
এই অবস্থায় ব্যাটাররা বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন, কারণ এখন ১৪ বলে ২৩ রান দরকার ছিল। অধিনায়ক বিষণ সিং বেদি পুরো বিষয়টি বুঝে যান। পরিস্থিতি যেন প্রহসনে পরিণত না হয়, সেই কারণেই তিনি ম্যাচ পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ম্যাচটি ঘরের দল পাকিস্তানের নামে তুলে দেওয়া হয় এবং পাকিস্তান সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতে নেয়। ওই ঘটনার পর সাহিওয়ালে আর কখনও কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
