পারিবারিকভাবে ফুটবলের সঙ্গে কোনও যোগ না থাকলেও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ জন্মায় বর্ষার। বিদ্যালয় জীবনে এক শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় শুরু হয় নিয়মিত অনুশীলন। সেই অনুপ্রেরণাই ধীরে ধীরে তাকে পৌঁছে দেয় জেলা ও রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায়। স্কুল জীবনে অংশ নিয়েছে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতাতেও। পরবর্তীকালে সৈকত কাপে অংশ নিয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করে সে।
advertisement
আরও পড়ুন – Sports Development: জেলা পেল ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস খেলার পরিকাঠামো, হবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে অগ্রগতি!
পারিবারিক আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকার চিন্তাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে চাকরি পাওয়া বর্ষার জীবনে বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি খড়গপুরের শেরসা স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে সে। ডিউটির সময়সূচি যাই হোক না কেন, ফুটবল অনুশীলনে কোনওদিন ছেদ পড়ে না। স্নাতক পাস পেশায় সিভিক ভলেন্টিয়ার বর্ষা ঘোড়াইয়ের অসাধারণ দক্ষতা চমকে দেবে সকলকে।
বর্ষার পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা ও এক বোন। সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজের স্বপ্নের দিকেও অবিচল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার বা আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সবসময় মেলে না। তবুও জেদ, পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসই তার মূল শক্তি।
আগামী দিনে বড় ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিদিন মাঠে নামে বর্ষা ঘোড়াই। দায়িত্ব আর স্বপ্নের লড়াইয়ে সে এগিয়ে চলেছে নিজের নির্দিষ্ট লক্ষ্যের পথে—নিঃশব্দে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।
Ranjan Chanda




