বাড়িতে অসুস্থ শাশুড়ি, ছেলে বিশেষভাবে সক্ষম। আজ থেকে প্রায় আট-ন’বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকেই ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। উপায় না পেয়ে বাড়ির এই কাঠের হ্যান্ডলুম বা তাঁতই তাঁর কাছে ভরসা। পরিস্থিতি বদলালেও এই হ্যান্ডলুম যোগায় অর্থ। এই তাঁত বাঁচিয়ে দিয়েছে গোটা সংসারকে। বৃদ্ধ বয়সেও তাঁত বুনে সংসার চালাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের এই বৃদ্ধ মহিলা। গোটা সংসারের দায়ভার নিয়েছেন নিজের কাঁধে। প্রতিদিনের লড়াই, তাঁর প্রতিদিনের জীবনে বেঁচে থাকা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে গোটা সমাজকে।
advertisement
আরও পড়ুন: আদিবাসী সংস্কৃতির টানে পাগল বিদেশিনী, আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভিড় শুশুনিয়ায়! নববর্ষে বিশাল উৎসব
লুমে শাড়ি বুনে চলে সংসারের খরচ। বিক্রি কমেছে, তাঁত বোনার জোরও কমে এসেছে শরীরে। তবুও প্রায় বছর তিরিশের পেশাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার শ্যাম সুন্দরপুর এলাকার বাসিন্দা কল্পনা মন্ডল। দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরেই তাঁত বোনেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে হাত লাগিয়ে দিতেন কাজে। তবে স্বামীর মৃত্যুর পর সেই পেশাকেই ধরে রেখেছেন তিনি। বর্তমানে সংসার চালাতে তাঁর অবলম্বন এই হ্যান্ডলুম।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শরীরে তেমন জোর নেই, চোখেও কম এসেছে দৃষ্টিশক্তি। কিন্তু সংসারের ভার তার কাঁধে। সমাজের সব প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে একের পর এক বিপদকে সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে চলেছেন আগামীর পথে। নুন ভাত খেয়েই দিন কাটে এই ছোট্ট সংসারে। সংসারের সব কাজ সামলে তাঁতে বসে পড়েন তিনি। যে হ্যান্ডলুম সভ্যতার উন্নতিতে হারিয়ে যাচ্ছে, সেই হ্যান্ডলুমই সংসারের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। লুমে কাপড় বুনে সংসার টানছেন তিনি। প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এই বৃদ্ধ মহিলা সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত।





