দৈনন্দিন জীবনে এই আওয়াজ শুধু বিরক্তির নয়, বরং এক প্রকার স্বাস্থ্যঝুঁকির নামান্তর। বয়স্কদের মধ্যে কানে ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং হার্টবিট বেড়ে যাওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল কিংবা আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এই বাইকের তাণ্ডব একেবারেই সহনশীল নয়। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগ নিল বসিরহাট জেলা ট্রাফিক পুলিশ। ডিএসপি ট্রাফিক সুব্রত কুমার বারিকের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে বিশেষ শব্দ নিয়ন্ত্রণ অভিযান। বোটঘাট, ইছামতি ব্রিজ এবং সীমান্ত রোডে চলছে নিয়মিত নাকা চেকিং। অতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে এমন সাইলেন্সার লাগানো মোটরবাইক চালকদের হাতে-নাতে ধরছে পুলিশ। যেসব বাইকে বেআইনি সাইলেন্সার রয়েছে, তা খুলে নেওয়া হচ্ছে এবং চালকদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
advertisement
ডিএসপি সুব্রত কুমার বারিক বলেন, “উচ্চমাত্রার ডেসিবেলের বেশি শব্দ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এই সীমা লঙ্ঘন করলে কড়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অনুমোদিত সাইলেন্সার ব্যবহার বাধ্যতামূলক।”
পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ নাগরিকের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। সামনের দিনগুলিতে এই ধরপাকড় আরও তীব্র হবে। অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং বাজার এলাকায় ক্যাম্প করার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রশাসনের। শুধু ট্রাফিক আইন নয়, এই অভিযানে যুক্ত করা হচ্ছে পরিবেশ আইনকেও। কারণ শব্দ দূষণ এখন শুধুই একটি ট্রাফিক ইস্যু নয়, বরং তা শহরের পরিবেশ এবং নাগরিক স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। বসিরহাটবাসীর পক্ষ থেকে পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, নিয়মিত এই অভিযান চালালে শহরের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে।
জুলফিকার মোল্যা





