জানা গিয়েছে, প্রসূতির বাপের বাড়ি রঘুনাথগঞ্জের তেঘড়ি এলাকায়। বুধবার হঠাৎই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে পরিবারের লোকজন তাঁকে টোটোতে করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু হাসপাতালের পথ আর সহজ হল না।
ফুলতলা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই টোটো আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটে। চারদিকে গাড়ির পর গাড়ি এক ইঞ্চি এগোনোরও জায়গা নেই।এর মধ্যেই প্রসূতির যন্ত্রণা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কার্যত বাধ্য হয়েই টোটোর মধ্যেই প্রসবের প্রস্তুতি নিতে হয়। ঠিক সেই সময়েই সামনে আসে মানবিকতার অনন্য ছবি।
advertisement
স্থানীয় কয়েকজন মহিলা ও পথচলতি মানুষ সমস্ত দ্বিধা ভুলে এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। তাঁদের সহযোগিতাতেই টোটোর মধ্যেই নিরাপদে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। সন্তান জন্মের পর স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রুত ডাকা হয় অ্যাম্বুলেন্স।
মা ও নবজাতককে নিয়ে যাওয়া হয় জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে স্বস্তির খবর, মা ও শিশু দু’জনেই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। এই ঘটনায় একদিকে যেমন মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সামনে এল, তেমনই আবার নগ্ন হয়ে উঠল যানজটের ভয়াবহ বাস্তবতা। জরুরি মুহূর্তে রাস্তায় আটকে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
আরও পড়ুন- মাধ্যমিকের টেনশন বিদায়! জেনে নিন কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্টের বিশেষ টিপস
স্থানীয় বাসিন্দাদের স্পষ্ট দাবি, যানজট কাটাতে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। রঘুনাথগঞ্জের রাস্তায় সেই দিন শুধু যানজটই ছিল না, ছিল কষ্ট, আতঙ্ক, আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার স্পর্শে জন্ম নেওয়া এক নতুন জীবনের গল্প।






