কালনার দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈষ্ণব ধর্মের পথ প্রদর্শক কালনা। এই শহরকে অম্বিকা কালনা বলা হয়ে থাকে। অম্বিকা মা কালীর আরেক রূপ। প্রাচীন গ্রন্থে অম্বিকা কালনার নাম পাওয়া যায়। এক সময় তাম্রলিপ্ত সাম্রাজ্যের একটা বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল অম্বিকা কালনা। হিন্দু ধর্মের ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই এলাকা। কালনায় প্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী মন্দির রয়েছে। কালনাকে মন্দিরের শহর বলা হয়। অসংখ্য প্রাচীন মন্দির রয়েছে এই শহরে। অনেক মন্দির টেরাকোটার কাজে সমৃদ্ধ। একশো আটটি শিব মন্দির রয়েছে কালনায়। এই মন্দির খুব বিখ্যাত। আমরা তার রক্ষাণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।
advertisement
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কালনায় রাজবাড়ি লাগোয়া বেশ কয়েকটি মন্দির রয়েছে। মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের জীবদ্দশায় নির্মিত সারা পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মহাপ্রভু মন্দির রয়েছে এই কালনাতেই। এছাড়াও এখানে রয়েছে কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির,লালজী মন্দির, প্রতাপেশ্বর মন্দির, শ্যামারানী রাধা মন্দির গোপাল বাড়ি মন্দির, অনন্ত বাসুদেব মন্দির। কালনায় খ্রিষ্টধর্মের শাখা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের প্রাচীনতম বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে এই কালনা শহরে। আবার দাঁতনকাঠির মসজিদের ধ্বংসাবশেষ প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। তাই আমি বলতে চাইছি, সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান কালনা। বিশ্বের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে এই কালনা শহরে এত মন্দির রয়েছে। তাই কালনাকে তীর্থক্ষেত্র বলাই যায়।
সবিস্তারে কালনায় হিন্দু দেবদেবীর মন্দিরের কথা তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী একদিকে যেমন বিজেপির হিন্দুত্বের অস্ত্রকে ভোঁতা করতে চাইলেন,তেমনই সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা তুলে ধরে সব ধর্মের মানুষের মন ছুঁতে চাইলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
