শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকে শিশির অধিকারীর সঙ্গেও তৃণমূলের সম্পর্ক ছিন্ন হয়৷ যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে শিশির অধিকারী বিজেপি-তে যোগ দেননি৷ রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সেভাবে দেখা যায়নি তাঁকে৷ যদিও গতকাল পূর্ব মেদিনীপুরেরই পটাশপুরে বিজেপি-র একটি ছোট সভায় হাজির হন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ৷
সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিশিরবাবু বলেন, ‘কেচ্ছা কেলেঙ্কারি ঘেন্না করি৷ সেসব নিয়ে কথাও বলতে চাই না৷ আমরাই তাঁকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করেছিলাম৷ আজকে গলবস্ত্র হয়ে আপনাদের কাছে এই মাটি ছুঁয়ে ক্ষমা চাইছি৷ একটা ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম৷ সঙ্গে আপনাদেরও নিয়ে গিয়েছিলাম৷ আপনাদের জন্য কিছু করতে পারলাম না৷ চোখ থেকে টসটস করে জল পড়ে৷ এখনও আপনাদের কাছে বলছি ছাব্বিশ সালে সরকারটা (বিজেপি-র) এনে দিন৷ আমি হর হর করে সব টেনে আনব৷ আমি জানি কোথায় কী করতে হয়৷ এখনও আমি অনেক দিন বাঁচব৷ তৃণমূলের কেউ জানত কংক্রিটের রাস্তা কী, একশো দিনের কাজ কী?’
advertisement
এখানেই না থেমে শিশির অধিকারী আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-কে জেতানোর আহবাণ জানিয়ে বলেন, ‘ব্রাহ্মণ সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি৷ ভুল করেছিলাম, আপনাদের সেই পথে চালিত করেছিলাম৷ দয়া করে ক্ষমা করে ছাব্বিশ সালে মোদিজির নেতৃত্বে বিজেপি-র সরকার নিয়ে আসুন৷ আমি অমিত শাহজিকে খুব ভাল ভাবে জানি৷ এখানে যা উন্নয়ন হবে আপনারা ভাবতে পারবেন না৷ সিপিএমের দু লক্ষ কোটি টাকার দেনা বলে আমরা নাচতাম৷ এখন কত হাজার টাকার দেনা? এর পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা কিছুই পাবেন না৷ কোটি কোটি টাকার সম্পদ আমাদের রাজ্যে লুকিয়ে আছে৷ অথচ খালি বালি, কয়লা, জল এসব বিক্রি করল৷’
এসআইআর নিয়েও তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রাক্তন সাংসদ৷ তিনি বলেন, ‘এসআইআর-এ এমন ক্ষত তৈরি হয়ে গিয়েছে, তাতে অনেকের মাথা আর ঠিক হবে না৷ অনেকে তাই দিনরাত উল্টোপাল্টা বকছেন৷’
শিশিরের এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছে তৃণমূলও৷ তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হয়েছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। শিশিরদার মতো বর্ষীয়ান মানুষের সস্তার রাজনীতির করাটা ঠিক হচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যা পেয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদটাই থাক। বাকি কোন বাধ্যবাধকতায় কী করতে হচ্ছে, তার জন্য এই নাটুকে সংলাপ বন্ধ করাই ভাল।’
