পূর্বস্থলী দুই ব্লকে ২৫ থেকে ৩০ টি তাঁত সমবায় এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ কোনওটাতে এখন চলছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। আবার কয়েক বিঘা জমিতে গড়ে ওঠা তাঁত সমবায় কারখানা জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। পূর্বস্থলীর সুলুন্টুতে ৯০ এর দশকে গড়ে উঠেছিল দেশবন্ধু পাওয়ারলুম৷ সেখানে তখন ১৫ জন সদস্য ছিলেন৷ সে সময় দেশবন্ধুর হাত ধরেই পাওয়ালুমের সমবায় চালু হয়েছিল৷ একটা সময় এই সমবায়ের হাত ধরেই নব্বই এর দশকে শাড়ি বিদেশে পাড়ি দিয়েছিল৷ এখন সেটাও বন্ধ৷ পূর্বস্থলী নবপল্লীর সমবায় আরও বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে৷ সেটা ১৯৮২ সালে তৈরি হয়েছিল৷
advertisement
আরও পড়ুন: শুধু বিশ্বকর্মা পুজো নয়, এই শহরে মকর সংক্রান্তিতেও রমরমিয়ে ওড়ে ঘুড়ি, হয় উৎসবও
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ছাপা শাড়ির জন্যও আলাদা কারখানা গড়ে উঠেছিল৷ এখন ওই সমবায়ে রাত হলেই অসাধু কাজকর্ম চলে৷ সেখানে যে দ্বিতল বড় সমবায় আছে তা কার্যত দেখাই যায় না। বড় জঙ্গল গড়ে উঠেছে ওই সমবায়কে ঘিরে৷ পূর্বস্থলীর কলুপাড়াতেও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে সমবায় তন্তুশ্রী৷ সেটাও নাকি তেত্রিশ বছর আগে বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ আগে সেখানে লুঙ্গি, ভাল শাড়ি তৈরি হত৷ রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, “আমাদের সরকার সমবায়গুলি পুনুরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে৷ বর্তমানে যেসব সমবায় রয়েছে তাদের কোটি কোটি টাকা ঋণ মকুব করে তাঁতিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।”
আরও পড়ুন: একাধিক পদে প্রচুর চাকরির সুযোগ পশ্চিম বর্ধমানে, দেরি না করে আজই আবেদন করুন
একটা সময় ভাগীরথীর পাড়ে পূর্বস্থলী জুড়ে তাঁতের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল৷ এখন তার সিকি ভাগ নেই৷ যেটুকু রয়েছে তাও আবার গুজরাটের সুরাট শাড়িতে বাজার শেষ করছে৷ বাংলার তাঁতশিল্পীরা অনেকেই কাজ হারিয়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। বর্তমানে সকলেই চাইছেন বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলি যেন পুনরায় চালু করা হয়। তাঁত সমবায়গুলি নতুন করে শুরু হলে কর্মসংস্থান হবে বহু মানুষের।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী





