শাক্ত ও বৈষ্ণব ধর্মের মিলন ক্ষেত্র মানেই নদিয়ার শান্তিপুর ধাম। এই শান্তিপুরে কতই না ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, যার এক অনন্যতম নাম জড়িয়ে রয়েছে রাস উৎসব অর্থাৎ রাস লীলা। জানা যায় শান্তিপুরের প্রথম রাস উৎসবের সূচনা হয়েছিল বড় গোস্বামী বাড়ি থেকে। বড় গোস্বামী বাড়ির মূল প্রতিষ্ঠাতা মথুরেস গোস্বামী এই রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন, তারপরেই বড় গোস্বামী বাড়ির একাধিক বংশধরদের বাড়িতে শুরু হয় রাসলীলা অর্থাৎ রাস উৎসব।
advertisement
আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে বিগ্রহ ঠাকুর রাধারমন চুরি হয়ে যায়, এরপর দেবী কাত্যায়নীর ব্রত করে সেই রাধারমনকে ফিরে পায়। কথিত রয়েছে রাধারমন একা থাকার কারণে রাধিকাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল, এরপর বিবাহের রীতি মেনে শুরু হয় রাসলীলা। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের মতই নহবত সানাই বাজিয়ে ইষ্ট দেবতা রাধারমন জিউকে তোলা হয় রাসমঞ্চে, এরপর তিনদিন ধরে চলে রাসলীলা, যাকে এক কথায় বলা ভাঙারাস। জানা যায় শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ির পাশাপাশি আরও প্রায় ৪০ টি গোস্বামী বাড়িতে সাড়ম্বরে পালিত হয় রাসলীলা।
আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গের বোল্লা কালী পুজোয় মানত করা হয় বাতাসা! সেখানে এখন বিরাট কাণ্ড
প্রত্যেকটি গোস্বামী বাড়ি রাস উৎসবের তিন দিন আলোক মালায় সজ্জিত হয়ে থাকে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ ছুটে আসেন গোস্বামী বাড়ি সহ অন্যান্য গোস্বামী বাড়ি গুলির রাস উৎসব দেখতে। প্রত্যেকটি বিগ্রহ অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি, এবং সোনার অলংকারে সুসজ্জিত করা হয়। বড় গোস্বামী বাড়ির রাধারমন জিউ কয়েক শতাব্দীর।
তবে প্রায় ৪০০ বছরের প্রথা এখনও যেন অক্ষর অক্ষরে পালন করে প্রত্যেকটি গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা। যে যেখানেই কর্মসূত্রে থাকুক না কেন রাস উৎসবের এই তিন দিন বাড়ির বিগ্রহ দেবতার আরাধনায় ব্রতী হন প্রত্যেকেই। ইতিমধ্যে বড় গোস্বামী বাড়ির রাস মঞ্চ সাজিয়ে তোলা হয়েছে আলোক সজ্জায়, আগত দর্শনার্থীরা যাতে রাধারমন জিউর রাসলীলা যেন চাক্ষুষ দেখতে পারে তার জন্য করা হয়েছে বিশেষ সুব্যবস্থা। তবে এই ভাঙারাস উৎসবের তিন দিন বড় গোস্বামী বাড়ির নাট মন্দির থেকে রাজ মঞ্চ পর্যন্ত পুলিশের কড়া প্রহরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
Mainak Debnath






