পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের সুয়াতা গ্রাম। এই গ্রামেই চলছে একটি মেলা । অনেকের কাছে এই মেলা ‘সুয়াতা বহমান পীরতলা মেলা’ নামেও পরিচিত। জানা যায় প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই মেলা হয়ে আসছে। সুয়াতা গ্রামে রয়েছে পীর বাবার স্থান। এই স্থানকে ঘিরেই পাঁচদিন ধরে চলে মেলা। দূর দূরান্ত থেকে পীর বাবার স্থানে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। তবে এই মেলার অন্যতম মূল আকর্ষণ মিষ্টি। মিষ্টি কিনতে আসেন দূর দূরান্তের বহু মানুষ। মিষ্টি কিনতে এসে ইব্রাহীম শেখ নামের এক ক্রেতা বলেন, “আমি টিফিন কৌট নিয়ে এসেছি মিষ্টি কিনতে। আজকে ৩০০ টাকার কিনলাম, মেলা যে-কদিন চলবে প্রতিদিনই কিনব। আমাদের গ্রামের প্রতিটা বাড়ি থেকেই দেড় দু হাজার টাকার মিষ্টি কেনে সবাই। এরকম আরও বহু গ্রাম থেকে মানুষ আসে মিষ্টি কিনতে। এখানকার মিষ্টি একেবারে স্পেশাল।” জানা যায় এই মেলায় এসে মিষ্টি না কিনে কেউ বাড়ি ফেরেন না। রীতিমতো বালতি, হাঁড়ি ভর্তি করে মিষ্টি নিয়ে যান বাড়িতে। যে যার সাধ্যমতো মিষ্টি কিনে বাড়ি নিয়ে যায়। এমনও অনেকে আছে যারা মেলায় মিষ্টি খেয়ে পেট ভরান, তারপর নিয়ে যান বাড়ির সকলের জন্য। পৌষ সংক্রান্তির দিন থেকে শুরু হয়েছে এই মেলা।
advertisement
পৌষ সংক্রান্তির দিন থেকে শুরু করে মোট পাঁচদিন এই মেলা চলবে । রতন দাস নামের এক মিষ্টি বিক্রেতা এই প্রসঙ্গে বলেন ,”এই মেলা মিষ্টির জন্যই বেশি বিখ্যাত। তাঁর এই মেলায় দেওয়া মিষ্টির দোকান প্রায় চল্লিশ বছরের পুরানো। মিষ্টি হিসেবে দেখতে গেলে প্রত্যেকদিন গড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকা ইনকাম হয় মিষ্টি ব্যবসায়ীদের। বিভিন্ন মাপের রসগোল্লা, রাজভোগ, ল্যাংচা, পান্তুয়া, জিলিপি ছাড়াও লবঙ্গলতিকা, খাজার মতো বিভিন্ন মিষ্টি বিক্রি হয়।” এই মেলায় কেউ দু’শো আবার কেউ দুই হাজার টাকার মিষ্টিও কেনেন।