গত সোমবার দুপুরে কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়ায় ঈশিতাদের বাড়ির দোতলায় উঠে গিয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে খুন করে দেশরাজ৷ পুলিশ আগেই জানতে পেরেছিল, গত রবিবার উত্তরপ্রদেশ রওনা দেওয়ার জন্য দেশরাজকে ট্রেনের টিকিট পাঠিয়েছিলেন তাঁর বাবা৷ তিনি রাজস্থানে কর্মরত রয়েছেন৷ তদন্তকারীরা জেনেছেন, সেই ট্রেনে না উঠলেও দেশরাজ বাবাকে জানিয়েছিল সে ট্রেনে করে উত্তর প্রদেশে দেশের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে৷
advertisement
কিন্তু বাবাকে কেন মিথ্যে বলেছিল দেশরাজ? তদন্তকারীদের দাবি, ঈশিতাকে খুনের পর পুলিশের হাতে ধরা পড়লে যাতে সে ঘটনাস্থলে ছিল না বলে দাবি করা যায়, তা নিশ্চিত করতেই আগেভাগে বাবাকে দিয়ে রবিবারের ট্রেনের টিকিট কাটিয়ে রেখেছিল দেশরাজ৷ শুধু তাই নয়, নিজের মোবাইল ফোনটিও সুইচ অফ করে রেখেছিল দেশরাজ৷ বাবাকে সে জানিয়েছিল, তার মোবাইল ফোন খারাপ হয়ে গিয়েছে৷ দিওয়ালিতে ছেলেকে নতুন ফোন কিনে দেবেন বলেও জানান দেশরাজের বাবা৷
তদন্তকারীদের আরও দাবি, দেশরাজ জানত যে সোমবার দিন দুপুরে ঈশিতার বাবা অফিসে থাকবেন৷ ওই সময় ঈশিতার মা যে তার ভাইকে স্কুল থেকে আনতে যান, সে খবরও ছিল দেশরাজের কাছে৷ সেই কারণেই দুপুরবেলার ওই সময় ঈশিতাদের মানিকপাড়ার বাড়িতে হানা দেয় সে৷ খোলা গেট দিয়ে সোজা দোতলায় উঠে ঈশিতাকে খুন করে দেশরাজ৷
কিন্তু ঘটনাচক্রে সেই সময় স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসেন ঈশিতার মা কুসুম মল্লিক৷ দেশরাজ পালানোর সময় তাঁদের মুখোমুখি পড়ে যায়৷ তা না হলে হয়তো ঈশিতাকে কে খুন করল, ওই ছাত্রীর পরিবার এবং পুলিশের পক্ষে তা খুঁজে বের করাই কঠিন হত৷
