তাঁর সঙ্গে সবসময় থাকে নিজের তৈরি একটি ট্রলি। সেই ট্রলির মধ্যেই থাকে বটগাছের চারা ও মাটি খোঁড়ার জন্য একটি ধাতব গাঁইতি। এই বিশেষ ট্রলির নামই তিনি দিয়েছেন ‘গ্রিন এক্সপ্রেস’। সম্প্রতি যশোর রোড সংস্কারের জন্য রাস্তার দু’পাশের বহু প্রাচীন গাছ কাটা হবে- এই খবর তাঁর কানেও পৌঁছয়। সেই প্রেক্ষিতেই এ দিন হাবড়া বিডিও অফিস সংলগ্ন যশোর রোডের ধার এলাকায় বটবৃক্ষ রোপণ করতে দেখা যায় এই প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষককে। শ্যামলবাবুর কথায়, মানুষ যদি এখনই সচেতন না হয়, তবে আগামী দিনে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে হবে।
advertisement
আরও পড়ুন: ঘন কুয়াশার সুযোগে দুষ্কৃতীদের গা ঢাকা দেওয়ার দিন শেষ! সীমান্তের ‘জিরো পয়েন্টে’ পুলিশের বড় পদক্ষেপ, সঙ্গে বিএসএফ
তিনি জানান, জীবনে এক সময় ইচ্ছে ছিল রাজ্য-দেশের নানা জায়গায় ফ্ল্যাট বাড়ি কেনার। সেই ইচ্ছে পূরণ না হলেও বটবৃক্ষ রোপণের মাধ্যমেই তিনি তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই গাছগুলিই তাঁকে ছায়া ও আশ্রয় দেবে এবং সেই অপূর্ণ ইচ্ছার আক্ষেপও অনেকটাই ভুলিয়ে দেবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ইতিমধ্যেই তিনি অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর সহ একাধিক রাজ্যে বটগাছের চারা রোপণ করেছেন। পাশাপাশি ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটানেও বটবৃক্ষ লাগিয়ে এসেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য, ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলি মিলিয়ে মোট পাঁচ হাজার বটগাছ রোপণ করা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিবেশ রক্ষার কাজ এখানেই শেষ নয়। সমাজকে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্দেশে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শ্যামল জানা। এ পর্যন্ত তিনি শুধুমাত্র বটগাছই রোপণ করেছেন ২,২৩৩টি। শ্যামলবাবুর মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন দিন দিন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। সেই কারণেই তিনি বটগাছ রোপণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ এই গাছ অল্প পরিচর্যায় বড় হয় এবং দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন হাবড়া ওয়ানের বিডিও সুবীর কুমার দণ্ডপাট সহ সমাজসচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, শ্যামল জানার মতো মানুষের হাত ধরেই আগামী দিনে হয়তো সবুজের পথে ফিরবে গোটা সমাজ।





