এই দুই বোনের চোখে ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন আছে। বড় হয়ে পুলিশ হওয়ার ইচ্ছে তাদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ কঠিন বাস্তবের মুখে পড়ে ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে বনগাঁ-পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকায় লরি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাদের বাবা বিশ্বজিৎ সরকারের। তিনি ওই এলাকায় একটি চায়ের দোকান চালাতেন। স্বামীর মৃত্যুর দু’বছর পর দুই মেয়েকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তাদের মা। সেই থেকেই নাতনিদের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে জীবনযুদ্ধ শুরু করেন ঠাকুমা নমিতা সরকার (৫৭) ও ঠাকুরদা মনীন্দ্রনাথ সরকার (৬৫)। মনীন্দ্রনাথবাবু লরির খালাসির কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালাতেন।
advertisement
আরও পড়ুন: জেল থেকে ফিরে পুরনো পেশায়, চায়ের দোকানের আড়ালে বেআইনি কারবার! পুলিশের হানায় পর্দাফাঁস
কিন্তু সম্প্রতি কাজের সূত্রে মুম্বাই গিয়ে দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যায় তাঁর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাজ বন্ধ থাকায় বর্তমানে পরিবারের কাছে কোনও আয়ের পথ নেই। ফলে চরম অভাবের মধ্যে পড়েছে পরিবারটি। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে পড়াশোনার খরচ- সবকিছুই এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। প্রতিবেশীদের সাহায্যে কোনওরকমে স্কুলে গেলেও ভবিষ্যৎ কীভাবে চলবে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না ঠাকুরদা-ঠাকুমা কেউই।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বৃদ্ধ ঠাকুমা নমিতা সরকার জানান, নাতনিদের মুখের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি। ওদের পড়াশোনা আর পেটের দায়িত্ব কীভাবে সামলাব, বুঝতে পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দারা আপাতত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘমেয়াদে কোনও স্থায়ী সহায়তা না পেলে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলেই আশঙ্কা। প্রশাসন বা সমাজের সহৃদয় মানুষের সাহায্যের দিকেই এখন তাকিয়ে বনগাঁর এই অসহায় পরিবার। তবে দাদু ঠাকুমার নাতনিদের নিয়ে এমন কঠিন লড়াই যেন সমাজের বাস্তব রূপকেই ফুটিয়ে তুলছে।





