নিপা ভাইরাস কী? (What Is Nipah Virus)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাস (NiV)-কে একটি জুনোটিক সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ, এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। দূষিত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে বা সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শেও নিপা ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ কখনও খুব হালকা উপসর্গে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা মারাত্মক আকার নিয়ে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিসের কারণও হতে পারে।
advertisement
এখন দেখছেন স্থল? আগে এই ৫ স্থানই ছিল অথৈ সমুদ্রের তলায়! জানেন কোনগুলো?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত তরুণী নার্স ও ওই ব্রাদার নার্স দু’জনেই বর্তমানে চিকিৎসাধীন। সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ কুইক রেসপন্স টিম সক্রিয় হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আক্রান্ত তরুণীর সাম্প্রতিক গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
কুইক রেসপন্স টিম আক্রান্ত তরুণীর গতিবিধির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা চিহ্নিত করেছে। এই তিনটি এলাকাকেই ‘হাই রিস্ক জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথমটি হল বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতাল, যেখানে আক্রান্ত তরুণী নার্স এবং ওই ব্রাদার নার্স কর্মরত ছিলেন। দ্বিতীয় স্থানটি নদীয়ার ঘোঘরাগাছি, যেখানে গত মাসের ১৫ ও ১৬ তারিখে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আক্রান্ত তরুণী। তৃতীয় স্থানটি হল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, যেখানে আক্রান্ত নার্সের বাড়ি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, চিহ্নিত হাই রিস্ক জোনগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে ওই এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং এবং নমুনা সংগ্রহের কাজ জোরদার করা হবে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, নিপা ভাইরাসের প্রথম শনাক্তকরণ হয় ১৯৯৮–৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় একটি বড়সড় প্রাদুর্ভাবের সময়। ওই সময় সংক্রমণ মূলত শূকর খামারের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। উচ্চ মৃত্যুহার এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতার কারণেই তখন থেকেই নিপা ভাইরাসকে অত্যন্ত বিপজ্জনক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ভারতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা সংখ্যায় তুলনামূলক ভাবে কম হলেও তার প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ২০০১ সালে এবং পরে ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। দীর্ঘ সময় পর কেরল নিপা সংক্রমণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, বিশেষ করে ২০১৮ সালে, যখন একাধিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে এবং প্রশাসনকে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়। এরপর থেকে কেরলে মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েছে, যদিও সেগুলি প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
ভারতের বাইরে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত হয়েছে বাংলাদেশে। ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে সেখানে প্রায় প্রতি বছরই নিপা আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে বিক্ষিপ্ত ভাবে সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম হলেও, উচ্চ মৃত্যুহার ও সংক্রমণের ঝুঁকির কারণে নিপা ভাইরাস এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয়।
