এ অবস্থার মূল কারণ বাজারজুড়ে বেড়ে ওঠা ভেজাল গুড়ের দাপট। শিবনিবাসের শিউলি বাসুদেব বিশ্বাস জানান, ২০টি গাছ কেটে রস পান মাত্র দুই থেকে চার হাড়ি, যা জ্বাল দিলে মেলে দুই থেকে তিন কেজি গুড়। সেই গুড় বাজারে বিক্রি হয় ২০০ টাকা কেজি দরে। অথচ চিনি মিশিয়ে তৈরি ভেজাল গুড় ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বাজার ভরে গিয়েছে। অল্প রসে প্রচুর গুড় তৈরি হওয়ায় লাভও তুলনায় বেশি ফলে খাঁটি গুড় উৎপাদকরা পড়ছেন লোকসানে।
advertisement
একসময় মাজদিয়ার ছিল নলেন গুড়ের স্বর্ণযুগ, রাজ্যের বাইরেও পরিচিত ছিল এখানকার সুগন্ধি গুড়। কিন্তু আজ পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে। ব্যবসায়ী মাধাই ঘোষ জানান, এখন তারা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় গুড় কিনে কলকাতায় ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। পাইকার অমিত ঘোষের ক্ষোভ, “মাজদিয়ায় এখন সবই ভেজাল গুড়। আগে গুড়ের গন্ধেই বোঝা যেত মান। এখন নাকে ধরলেও সুবাস নেই।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ১০০ কেজি চিনিতে এক ভার রস মিশিয়েই খেজুরের গুড় তৈরি হচ্ছে। এতে জ্বালানি সাশ্রয়, সময় কম আর হাজার টাকার চিনির গুড় বাজারে বেচা যাচ্ছে দ্বি’গুণ দামে। ফলে ভেজাল গুড়ের আঘাতে খাঁটি নলেন গুড়ের ঐতিহ্য আজ তলানিতে। ক্ষতিগ্রস্ত শিউলিদের আশঙ্কা, এইভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলের আসল নলেন গুড় হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।





