অনেকেই মনে করছেন যেখানে খোদ পুলিশের বাড়িতে চুরি হতে পারে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা একদম তলানিতে ঠেকেছে। সূত্রের খবর, কলকাতার একটি থানার সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন অরূপ সাহা। তার বাড়ি শান্তিপুর থানার অন্তর্গত বাগআছরা কুলিয়া সাহা পাড়াতে। তবে কলকাতাতেই দীর্ঘদিন ধরে পোস্টিং রয়েছে তার। তিনি অবিবাহিত। বাড়িতে রয়েছেন তার বাবা এবং মা। তবে অরূপ বাবুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার মা ছেলের সঙ্গেই থাকছেন বিগত প্রায় ১০ দিন ধরে। আর তাদের সঙ্গে নন্দদুলাল সাহা কলকাতায় যান দেখা করতে। আর এই সুযোগটারই অপেক্ষা করছিল চোরেরা।
advertisement
আরও পড়ুনঃ তালা ভেঙে চুরি করতে এসে লবডঙ্কা! রাগের মাথায় বাড়িতে আগুন লাগিয়ে চম্পট চোরের দল, বড় ক্ষতি গৃহস্থের
যদিও চোরেদের আনাগোনা লক্ষ্য করেন প্রতিবেশী যুবক অমিত সাহা, তার কথায় রাত আনুমানিক দুটো নাগাদ বাড়ির মধ্যে থেকে একজনকে বেরোতে দেখে চেঁচামেচি করতেই রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি দুইজন মিলে একসঙ্গে ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াতে থাকেন কিছুটা দূরেই হয়তো মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে ছিল সেটাকে জোরে পিকআপ নিয়ে উধাও হয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
আরও পড়ুনঃ গভীর রাতে ট্রলার থেকে উধাও মৎস্যজীবী, শৌচকর্ম করতে গিয়েই কি তবে অঘটন! তোলপাড় করে চলছে তল্লাশি
এরপর প্রতিবেশীরা দেখতে পান, তাদের বাড়ির দরজার তালা ভাঙা, সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন অরূপ বাবুর পরিবারকে। তড়িঘড়ি কলকাতা থেকে শান্তিপুরে ফিরে এসে দেখেন লোহার গ্রিলের গেটে প্রায় তিনটি তালা ভাঙা রয়েছে। অরূপ বাবুর ঘরের দরজা না ভেঙে ভাঙা হয়েছে মা বাবার ঘরের দরজা যেখানে ছিল লোহার আলমারি সেই আলমারিতে থাকা লকারের চাবি নিয়ে আনুমানিক এক লক্ষ টাকা নগদ এবং ৬ থেকে ৭ ভরি সোনার গয়না-সহ বেশ কিছু রুপোর গয়নাও উধাও হয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিবারের দাবি, নগদ প্রায় এক লক্ষ টাকা-সহ সোনাদানা মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি খোয়া গিয়েছে তাদের। আর এই সবই জমানো হচ্ছিল একমাত্র পুত্রের বিবাহের কথা ভেবে। ইতিমধ্যেই শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পরিবার। সঙ্গে সঙ্গেই শান্তিপুর থানা পুলিশ প্রশাসন এসে ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে গিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিপুর থানা পুলিশ। এদিন সকালে আরও একবার এসে ওই স্থানে পড়ে থাকা ছেনি হাতুড়ি এবং কাঠ কাটার ছোট একটি কুঠার উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তবে প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, স্থানীয় বাগদেবীপুর মন্দিরে সম্প্রতি চুরি হয়েছে শান্তিপুর শহরেও বেড়েছে চুরির উপদ্রব এবার খোদ পুলিশের বাড়িতে চুরি হওয়ায় যথেষ্ট আতঙ্কিত তারা। তবে এত পরিমাণে নগদ অর্থ এবং মূল্যবান সোনার রুপোর অলংকার রেখে মাঝেমধ্যেই এভাবে বাড়িতে না থাকা যথেষ্ট বোকামি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পরিবার থেকে বলা হচ্ছে, গ্রামের দিকে তারা এভাবেই অভ্যস্ত কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে, তাও আবার পুলিশের বাড়ি কেউ ভাবতেই পারিনি। তবে আশ্চর্যের বিষয় চারটি তালাও পর্যন্ত উধাও হয়েছে।






