অনেক সময় দেখা যায় তার উল্টোটাও, এরকম নানান অজুহাত দিতে দেখা যায় বেশ কিছু অর্থলোভী স্বার্থান্বেষী মানুষদের। শান্তিপুরের বাসিন্দা স্বদেশ বসাকের ক্ষেত্রেও তা হতে পারতো, পরিবারের কেউ সরকারি চাকরিজীবী নন, দুর্দশা কাটিয়ে কোনরকমে তুলনামূলক স্বচ্ছল অবস্থা ফিরেছে তাদের। ঘর বানানোর সরকারি টাকা মঞ্জুর হলেও তা ফিরিয়ে দেওয়ার মত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি।
advertisement
নদিয়ার শান্তিপুর থানার নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুইচা বসাকপাড়ার বাসিন্দা স্বদেশ বসাক দেখালেন এক বিরল মানবিক উদাহরণ। পিতা স্বর্গীয় গোপাল বসাক ছিলেন পেশায় তাঁতি। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেন স্বদেশ। বর্তমানে পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও মা। স্ত্রী টেলারিংয়ের ছোটখাটো কাজ করেন এবং স্বদেশ নিজেও তাঁতের তৈরি সামগ্রী এক্সপোর্টের কাজ করেন। জীবিকার টানাপোড়েন থাকলেও পরিশ্রম ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিতে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের কাছে আবেদন করার সময় স্বদেশের ঘর ছিল কাঁচা। সেই প্রেক্ষিতেই সরকারি আবাস যোজনার আওতায় তাঁর নামে একটি বাড়ি অনুমোদিত হয়। কিন্তু এর মধ্যেই স্বদেশ ও তাঁর স্ত্রী অনেক কষ্ট করে নিজেদের উদ্যোগে একটি পাকা ঘর তৈরি করেছেন, যার ওপরে টিনের ছাউনি রয়েছে। নিজের ঘর তৈরি করতে পারায় তিনি উপলব্ধি করেন, আগের তুলনায় তাঁর পরিবারের অবস্থা এখন কিছুটা হলেও ভালো হয়েছে।
এই অবস্থায় সরকারি সহায়তা গ্রহণ না করে, তিনি মনে করেন এই সুযোগ অন্য কারও প্রাপ্য, যে আজও দারিদ্র্যসীমার নিচে থেকে কাঁচা ঘরে বাস করছে। তাই এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে স্বদেশ স্বেচ্ছায় আবাস যোজনার বাড়ির অর্থ প্রত্যাখ্যান করেন। সম্প্রতি তিনি সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে লিখিতভাবে আবেদন জমা দিয়ে নিজের জন্য বরাদ্দ হওয়া ঘর অন্য প্রয়োজনীয় মানুষকে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহল—সবাই তাঁর এই মানবিক সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্বদেশ বসাক প্রমাণ করেছেন, শুধু নিজের উন্নতি নয়, সমাজের দুর্বল মানুষদের প্রতিও দায়িত্ববোধ রাখা একান্ত কর্তব্য। তাঁর এই সৎ ও দূরদর্শী পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে সমাজে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে রয়ে যাবে।






