শান্তিপুরের বনকুঞ্জ–কে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে নাটকের পরিসর। এখানে কোনও নির্দিষ্ট মঞ্চ নেই। বরং গোটা বনাঞ্চলই পরিণত হয়েছে এক চলমান থিয়েটারে। দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নাটক উপভোগ করতে হয়েছে ঘুরে ঘুরে। অভিনেতারা কখনও গাছের ডালে, কখনও মাটির উপর, আবার কখনও বাড়ির ছাদ থেকে সংলাপ ও অভিনয় পরিবেশন করেছেন সাবলীল ভঙ্গিতে।
advertisement
নাট্যনির্দেশক কৌশিক চট্টোপাধ্যায় জানান, এই ধরনের ‘ইমার্সিভ’ বা চলমান থিয়েটার ভারতবর্ষে খুব কমই দেখা যায়। তিনি বলেন, “বিদেশে এই ধরণের নাট্যরূপায়ণের কথা শুনেছি বা কিছুটা উপলব্ধি করেছি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে, বিশেষ করে নদিয়ার শান্তিপুরে, এই প্রথম আমরা এমন একটি প্রয়াস করলাম।” তাঁর মতে, নাটককে মানুষের কাছে আরও সহজ ও জীবন্ত করে তুলতেই এই ভাবনার জন্ম। আলো ও শব্দ পরিকল্পনাও ছিল নাটকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলো ও শব্দের ব্যবহার নাটকের আবহকে আরও গভীর করেছে। রাতের অন্ধকার, গাছের ছায়া ও কৃত্রিম আলোর মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এক অনন্য দৃশ্যমান অভিজ্ঞতা, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। অনেকেই জানিয়েছেন, এই ধরনের চলমান থিয়েটার ভারতের বুকে প্রায় দেখা যায় না। তাঁদের মতে, এত বড় একটি বনকুঞ্জকে সম্পূর্ণভাবে থিয়েটারের পরিসরে রূপান্তরিত করা এক ঐতিহাসিক ও সাহসী উদ্যোগ। শান্তিপুরের এই নাট্যপ্রয়াস প্রমাণ করল, সঠিক ভাবনা ও সৃজনশীলতায় থিয়েটার তার চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে নতুন দিগন্তে পৌঁছতে পারে।





