পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে মুম্বই গিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বধুয়া গ্রামের বাসিন্দা আসফার শেখ। মুম্বই হামলার ২১ দিন আগেই মায়ানগরীতে পা রেখেছিলেন তিনি… উদ্দেশ্য একটাই! সামান্য কিছু টাকা বাড়তি রোজগার! পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে, বোনের বিয়ের টাকা জোগাড় হবে! কিন্তু বেচারা আফসার কি জানত, মুখে হাসি নয়, চোখে জল নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে তাঁর পরিবারকে!
advertisement
১৭ বছর আগে ২৬/১১। রাত ন’টা নাগাদ মুম্বইয়ের ভিটি ষ্টেশনে খাবার খেতে গিয়েছিলেন আফসার। আর ফেরেননি। আততায়ীর গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় সদ্য আরব-পাড়ে আসা আফসার শেখ। খবর যায় পরিবারের কাছে! শুরুতে বিশ্বাস হয়নি। পরে ছেলের নিথর দেহ ফিরেছে গ্রামের বাড়িতে। কালের নিয়মে গঙগফা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে! চোখের জল চোখেই শুকিয়েছে। কড়াল বাস্তবের অভিঘাতে বাঁচতে শিখে গিয়েছে আফসারের রিবার। কিন্তু মনের ভিতরের ক্ষতটা আজও ১৭ বছর আগের মতো রক্তাক্ত, আগের মতো দগদগে। আজমল কাসভের ফাঁসি হয়েছে। কিন্তু বাকি অভিযুক্তদেরও শাস্তি চান আফসারের পরিবার।
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রেলের তরফে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, সেই টাকা আজও হাতে পাননি বলেই অভিযোগ মৃতের বাবা আল্লারাখা শেখ। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকা, মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকা ও বালাজি গ্রুপের তরফে ১০ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে। বর্তমানে বাবা আল্লারাখা শেখ বাড়ির বাগান ও জমি পরিচর্যা করেন। মা আনারকলি বিবি এখনও আঁকড়ে বসে ১৭ বছর আগের স্মৃতি।





