আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা নাকি হত্যা? মুম্বইয়ে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের
ব্যান্ডেলের এই স্কুলে ক্লাস করতে হয় দুর্গন্ধের মধ্যে। চারিদিকে বারো মাস জল জমে থাকে। আগাছার জঙ্গলে ভরে আছে। মশা, মাছির উপদ্রব তো আছেই। এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির নোংরা ময়লা ফেলে যায় স্কুলের সামনে। এমনকি গবাদিপশুর মৃতদেহ’ও ফেলা হয় সেখানে। কুকুরে টেনে নিয়ে স্কুলে ঢুকে পড়ে। এক কথায় নরকের মধ্যেই চলে ক্লাস!
advertisement
বাধ্য হয়ে তিন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকরা এবার রাস্তায় নামলেন। ব্যান্ডেলে রেল কোয়ার্টার এলাকা, ক্যান্টিন বাজার, স্টেশন রোড, নলডাঙা, আমবাগান এলাকায় এর প্রতিবাদে পদযাত্রা করেন তাঁরা। পড়ুয়াদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘স্কুলের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে দাও’, ‘দূষণ মুক্ত বিদ্যালয় চাই।’
আরও খবর পড়তে ফলো করুন
https://whatsapp.com/channel/0029VaA776LIN9is56YiLj3F
বিদ্যামন্দির স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবলু জানা বলেন, আমাদের মিছিলের উদ্দেশ্য হল স্কুলের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ একেবারে জঘন্য অবস্থায় রয়েছে। এই পরিবেশের মধ্যে আমাদের পঠন-পাঠন চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ক্লাস যখন হচ্ছে ছেলেমেয়েরা নাকে হাত দিয়ে বসে থাকছে। আমরা পড়ুয়াদের বলি স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কথা। কিন্তু এখানে তা নেই।মানুষজন তাঁদের বাড়ির সমস্ত আবর্জনা এনে স্কুলের সামনে ফেলছে। স্কুলের পিছনের গেট খোলা যায় না।গবাদিপশুর মৃতদেহ ফেলা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষিকা অনন্যা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি কারণ আমাদের স্কুল খুব সুন্দর পরিবেশ ছিল ১৯৫৩ সাল থেকে। কিন্তু ইদানিং সেই পরিবেশ অনেকাংশে নষ্ট হয়েছে। সচেতনতার অভাবে মানুষ পরিবেশ নষ্ট করছে। ফলে স্কুল করা মুশকিল হচ্ছে। অভিভাবক তাপসী গায়েন বলেন, এত আবর্জনা দেখেও মানুষ সচেতন হচ্ছে না। প্রচার না করলে মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না। এই স্কুলে আমাদের এলাকারই বাচ্চারা পড়ে। বিদ্যামন্দির স্কু্লের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী রূপসা দাস বলেন, আমরা চাইছি স্কুলের আশেপাশে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাক। আবর্জনা কেউ যেন না ফেলে। এটা সবারই বলা উচিত। আমাদের ক্লাস করতে ভীষন অসুবিধা হয়। গন্ধে টেকা যায় না।স্কুলের পাশে গবাদি পশু কুকুর ফেলে যায়, বারণ করলেও শোনে না।
রাহী হালদার





