প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলেই রাশি রাশি গাছের সঙ্গে দেখা হয় আমাদের। এসব গাছের কত রকমফের; বাহারি পাতার গাছ, বিচিত্র ফল-ফুলের গাছ, এমনকি ঔষধিগাছও আছে। আবার জানালার পাশে দাঁড়ালেও অনেক গাছ চোখে পড়ে। তবে শুধু মাত্র টবেই ফুটে উঠল দামি মশলা হিসেবে পরিচিত কেশর।
মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গা ব্লকের অন্তর্গত শিক্ষক রুপেশ দাস আপেল চাষের পরে এবার তিনি এবার কেশর চাষ করেছেন। তবে কেশর চাষ করেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গাছকে ভালবেসে যত্ন করলেই তবে গাছে চাষ করা যেতে পারে।
advertisement
রূপেশবাবু বলেন, এখানে আবহাওয়া উষ্ণ ও কেশর চাষের প্রতিকূল। তবু সঠিক পরিচর্যার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে। এবার ১০টির বেশি জাফরান গাছ ফলিয়েছেন রূপেশবাবু। অন্য প্রদেশের ফুল ও ফলের চাষ করাই তাঁর শখ।
রূপেশবাবু বেলডাঙা চক্রের নওপুকুরিয়া নতুনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর শখের বাগানে হিমাচলপ্রদেশের আপেল, পিচ, পার্সিমন, অ্যাপ্রিকট, ব্লু-বেরির মতো নানা ফলের গাছ রয়েছে। বিদেশি জাতের আঙুরও চাষ করেছেন তিনি। এর আগে ছ’টি আপেল গাছে ভাল ফল এসেছিল। এবার ৪০টি টিউলিপও ফুটেছে।
পৃথিবীর সবথেকে দামি মশলা হিসেবেই পরিচিত এই কেশর। আর সেই দামি মশলা চাষ করলেন এবার এই শিক্ষক নিজের বাড়ির বাগানে। আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতনতা এবং গাছের সম্পর্কে সচেতনতা থাকলেই এই কেশর চাষ করা যেতে পারে নিজের বাড়ির বাগানে বা টবে। সঠিকভাবে কেশরের ১২ গ্রাম চারা পেলেই ঠিকমতো চাষ করা যেতে পারে এবং তারপরে ফুল পাওয়া যেতে পারে অনায়াসে বলেই দাবি শিক্ষকের।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার কাছাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রূপেশ দাস পেশায় শিক্ষক। আগাগোড়ায় তার শখ বিভিন্ন ব্যতিক্রমী গাছপালা লাগানো। কয়েক মাস আগে তীব্র গরমের সময় আপেল চাষের আগ্রহে হিমাচলপ্রদেশ থেকে তিনটি প্রজাতির ১০-১২টি আপেল গাছ নিয়ে এসে দেড় কাঠা জায়গায় নিজের বাগানে প্রতিস্থাপন করেন। ভাল ফল মেলে। এবার আপেল চাষের পর নিজের বাড়িতে এবার কেশর চাষ করেছেন।
আরও পড়ুন- রাতারাতি সেলিব্রেটি! কলকাতার বইমেলায় ‘বডিগার্ড’ নিয়ে ঘুরছে ম্যাসকট জুটি, সেলফির হুড়োহুড়ি
মুর্শিদাবাদের মাটিতে আপেল চাষের পর কেশর চাষ করতে পেরে খুশি রূপেশ বাবু। এবং আগামীতে আরও বেশি করে দামী মশলা কেশর চাষে উৎসাহিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। বেলডাঙ্গার মাটিতে কেশর চাষ করে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন রূপেশ দাস। তাপমাত্রা ১৭-২২ডিগ্রির কাছাকাছি এলে সামান্য জৈব পটাশ দিতেই ফুলের কুঁড়ি বের হতে শুরু করে। এই কেশর ফুল প্রায় ছ’সাতদিন সতেজ থাকে। আগামী দিনে একটি বাগানে টিউলিপ ও কেশর চাষের ইচ্ছে আছে।





