বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশই চেনেন না তাঁকে। যে মাটির টানে তিনি বারবার ফিরে আসতেন, সেই বর্ধমানের বুকেই আজ তাঁর স্মৃতি ম্লান হতে বসেছে। কমল মিত্রের দাদু জগৎবন্ধু মিত্র ছিলেন হুগলির চাঁদরা এলাকার বাসিন্দা। ১৮৬০-৭০ দশকে বর্ধমান জ্বরের সময় তাঁকে বর্ধমানের নিয়ে আসেন বিদ্যাসাগর মহাশয়। পরবর্তীকালে বর্ধমানের সিং দরজা কাছে স্থায়ী বসবাস তৈরি করে জগবন্ধু মিত্র। বর্ধমানের এই বাড়িতেই জন্ম কমল মিত্রের।
advertisement
পড়াশোনা শেষ করে তিনি যোগ দিয়েছিলেন কালেক্টর অফিসে চাকরিতে। কিন্তু প্রথম থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন অভিনয়ের সঙ্গে। বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় মঞ্চে অভিনয় করেছেন তিনি। তাই চাকরি করলেও নিয়তি তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল রূপালী পর্দার জগতে, বাংলার দর্শক পেল এক নতুন ঘরানার অভিনেতা। কখনও রাসভারী কণ্ঠে বাবার ভূমিকায়, তো কখনও দোর্দণ্ডপ্রতাপ জমিদারের চরিত্রে তাঁর দাপুটে অভিনয় আর সংলাপ মুগ্ধ ছিলেন দর্শক।
আরও পড়ুন: ‘শুনলে চমকাবেন, SIR-এ মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে’, আইপ্যাকে ইডি-কাণ্ডের মাঝেই বড় অভিযোগ মমতার
সিংদরজা এলাকায় আজও সেই বাড়িটি বর্তমান,যদিও সময়ের নিয়মে আজ তা শরিকি ভাগে বিভক্ত। বাড়ির সামনের রাস্তাটি অভিনেতার দাদুর জগবন্ধু মিত্রের নামে নামাজে তো হলেও, বাড়িটি ছাড়া স্মৃতি বলতে আর কিছুই নেই কমল মিত্রের। সেখানেই অভিনেতার এক ভাইপো সুহৃদ মিত্রের খুলেছেন একটি ইলেকট্রনিক্স জিনিস সারানোর দোকান।
কমল মিত্রের ভাইপো সুহৃদ মিত্র বলেন, কাকা অভিনয় করার সময় থেকেই কলকাতাতে থাকতেন। মাঝে মাঝে বর্ধমানের বাড়িতে আসতেন তখন তাঁকে দেখেছি। খুব গম্ভীর গলা ছিল তাঁর। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখনকার প্রজন্ম তাঁকে চেনেই না। তাঁর কোন স্মৃতিও নেই বর্ধমানে। সময়ের ধুলো জমেছে স্মৃতির জানালায়। সিং দরজার সেই পুরনো ভিটে এখন নিছকই এক ইটের কাঠামো, যেখানে একসময় প্রতিধ্বনিত হত বাংলা চলচ্চিত্রের সেই দাপুটে কণ্ঠস্বর। বর্ধমানের মাটি থেকে উঠে কলকাতার স্টুডিও পাড়া কাঁপানো এই অভিনেতার স্মৃতি বলতে আজ কেবল তাঁর সেই বাড়ি।





