সে সময় ছয় ভাইয়ের এক জনের কঠিন ব্যাধি। তাঁর জীবন বাঁচাতে অন্য ভাইয়েরা ঐকবদ্ধ হয়ে দেবীর আরাধনা শুরু করেছিল আরোগ্য লাভে। দেবীর কৃপায় সুস্থ হয়েছিলেন নাথবাড়ির সদস্য। সেই থেকে নাথবাড়ির রক্ষক হয়েই রয়েছেন মা কালী। বর্তমানে নাথ বাড়ির সদস্য সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে, ৮ থেকে ৮০ বয়স সকলেই ভক্তি ভরে দীপান্বিতা কালী পুজোয় মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন। পরিবার সদস্যদের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন হাজির হন আগের দিন থেকে। পূর্ণ রীতি এবং পরম্পরা বজায় রেখে মৃৎশিল্পী, পুরোহিত, ঢাকি সকলেই বংশপরম্পরায় যুক্ত রয়েছেন নাথ বাড়ির এই পুজোয়।
advertisement
পুরনো রীতি মেনে বাড়ির পুরুষ মহিলা সদস্য মিলে পুজোর আগে গঙ্গা থেকে নয় ঘড়া জল আনতে যান। পুরনো নিয়মমতো অড়হর ডালের ভোগ নিবেদন করা হয়। নয় ঘড়া জলের মধ্যে ২ ঘড়া জলে ভোগ তৈরির কাজে লাগে। সাত ঘড়া জল পুজোর কাজে ব্যবহৃত হয়। চার প্রহরে পুজো সম্পন্ন হয়। চার প্রহরের আলাদা পুজোর অর্ঘ্যের পাশাপাশি আলাদা বাসনপত্র লাগে নাথবাড়ির নিয়মে।
জাঁকজমক করে মা কালীর পুজো হয় পঞ্জিকা মতে। পুজোর আগে নাথ বাড়ির গৃহদেবতাকে ঢাক, কাঁসর, শঙ্খ বাজিয়ে ঠাকুরঘর থেকে নিয়ে আসা হয় ঠাকুরদালানে। মা কালীর পুজোর পাশাপাশি বাস্তু মনসার পুজো হয় অমাবস্যা শেষ হলে।
পারিবারিক কালীপুজো মানে নাথবাড়ির সদস্যদের কাছে সবথেকে বড় উৎসব। তাই সারা বছর অপেক্ষার এই দিন। বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই জোর প্রস্তুতি। ঠাকুরদালান সাজানো থেকে পুজোর জোগাড় সমস্ত কিছুতে পরিবার সদস্যা-সদস্য। পুজোর দিন সকালে থেকে প্রতিমা আনা, নাড়ু পাকানো, নৈবেদ্য সাজানো, ফুল-বেলপাতার মালা গাঁথা। পরিবার সদস্যে, আত্মীয় এবং গ্রামের মানুষও সামিল হয় মা ‘য়ের আরাধনায়।
নাথবাড়িতে সিদ্ধেশ্বরী কালীপুজোর সূচনা করেছিলেন ডাঃ শশীভূষণ নাথ। অসুস্থ দাদা হরিশচন্দ্র নাথের সুস্থতা কামনা করে। মা কালীর আরাধনা করেই দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছিল হরিশচন্দ্র নাথ। সেই থেকেই নাথ বাড়িতে মা কালীর পুজোর চল। এ বছর ১৬২ তম বর্ষে নাথ বাড়ির কালীপুজো।
এ প্রসঙ্গে মৌরিতে নাথবাড়ির সদস্যা ও সদস্যরা জানান, সমস্ত বিপদ থেকে নাথবাড়িকে রক্ষা করে মা সিদ্ধেশ্বরী কালী। নাথবাড়িতে আদরিণী কন্যা রূপে পুজো হয় মা কালী।