লক্ষাধিক টাকার ব্যয়বহুল ‘টোটাল হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট’ অপারেশনে প্রথম সাফল্য পেল ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ১০ জনের মেডিক্যাল টিম গঠন করে দু’ঘণ্টায় অপারেশন হয়। জঙ্গলমহলে এই প্রথমবার এমন চিকিৎসা বলেই দাবি করা হচ্ছে। ব্যয়বহুল এবং বেশ কষ্টসাধ্য এই পরিষেবা পেলেন রেল শহর খড়্গপুরের এক গৃহবধূ।
আরও পড়ুন: ভুয়ো ওয়েবসাইটের রমরমা! আলিপুর মিউজিয়ামের অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের আগে সাবধান! জানুন সঠিক পদ্ধতি
advertisement
পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর লোকাল থানার নিমপুরার বাসিন্দা বছর ২৪ এর গৃহবধূ ফুলমনি মাহাতো চার বছর আগে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর শৌচালয়ে গিয়ে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তারপর থেকেই তাঁর বা পা ঠিকমতো কাজ বন্ধ করে দেয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন, তবে কোনওভাবে সারেনি সমস্যা। গৃহবধূর মা সরস্বতী মাহাতো বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসার জন্য কলকাতা, ভুবনেশ্বর, কটক-সহ একাধিক জায়গায় গিয়েছি। কোথাও উপযুক্ত চিকিৎসা পাইনি। অপারেশনের জন্য দুই থেকে আড়াই লক্ষ টাকা খরচের কথা জানিয়ে ছিল সব জায়গায়।’ আর শেষমেশ এমন ব্যয়বহুল অপারেশন হল ঝাড়গ্রামেই।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলমনির স্বামী সামান্য কাঠমিস্ত্রি হওয়ায় এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব ছিল না। বেশিরভাগ সময় শুয়ে কাটাতে হত। তবে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করার পর সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই এই চিকিৎসা পেয়ে খুশি পরিবার। নতুন ভাবে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি চিকিৎসকেরাও। মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিসেম্বরের ২২ তারিখ হাসপাতালে বহির্বিভাগে অস্থি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে গৃহবধূ চিকিৎসা করাতে এলে হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পরামর্শ দেন। সেইমতো সে ভর্তি হলে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা দেখেন কোমরের বাঁদিকের জয়েন্টটি বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত অপারেশন না করলে চিরকালের মতো পঙ্গু হতে পারে রোগীটি। সেইমতো অপারেশনের উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অস্থি বিভাগের এইচওডি প্রফেসর ডাঃ রঞ্জিত সাউ এর নেতৃত্বে অপারেশন হয়। এদিন অস্থি বিভাগের এইচওডি-সহ ধনঞ্জয় পাণ্ডা, শান্তনু পট্টনায়েক এবং চয়ন পাল আরও তিনজন অস্থি চিকিৎসক সহ দু’জন এনাস্থেথিস্ট এবং চার জন নার্স মিলিয়ে মোট ১০ জনের মেডিক্যাল টিম গঠন করে দু’ঘণ্টা ধরে অপারেশন করা হয়। অস্থি বিভাগের এইচওডি ডাঃ রঞ্জিত সাউ বলেন, ‘এই ধরনের অপারেশন এই মেডিক্যাল কলেজে প্রথম। সমস্ত ধরনের উপকরণ না থাকায় আমাদের কাছের বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জের মতো ছিল। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে ইমপ্ল্যান্ট পাওয়ার পরেই অপারেশনের সফলতা পেয়েছি আমরা’।






