আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার বাঘাডাবর গ্রামে চুরি-ছিনতাই নেমে এল শূন্যতে! পুরো কৃতিত্ব গ্রামবাসীদের
অন্যদিকে চন্দনেশ্বরেও বহু বাঙালি ব্যবসা করেন। চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে বড় বাজার গড়ে উঠেছে। সেখানে চন্দনেশ্বরের স্থানীয়দের মতই পূর্ব মেদিনীপুরের অনেকেই দোকান বসিয়েছেন। চন্দনেশ্বর থেকে দিঘার দূরত্ব মাত্র ছয় কিলোমিটার। বহু বছর ধরে দুই সীমান্তের মানুষ যাতায়াত করেন। ব্যবসার মাধ্যমে সম্পর্কও তৈরি হয়েছে। কিন্তু দিঘায় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য দোকান উচ্ছেদ শুরু হওয়ার পরই বিভ্রান্তি ছড়ায়। ওড়িশার কিছু মানুষের দাবি, নাকি বাংলার একশ্রেণীর লোক ওড়িশার বাসিন্দাদের দিঘায় দোকান বন্ধ করতে বলেছে। এই অভিযোগ ছড়িয়ে পড়তেই চন্দনেশ্বরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
advertisement
অভিযোগের জেরে চন্দনেশ্বরের ব্যবসায় সমিতির কিছু সদস্য বাঙালি দোকানদারদের কাছে যান। তারা জানান, তিন দিনের মধ্যে দোকান তুলে নিতে হবে। হঠাৎ এই ডেডলাইন পেয়ে বাঙালি ব্যবসায়ীরা চিন্তায় পড়েন। যারা বহু বছর ধরে চন্দনেশ্বরে দোকান চালাচ্ছেন, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা। অন্যদিকে দিঘা এলাকায়ও দোকান উচ্ছেদ হওয়ায় ওড়িশার বহু দোকানদার সমস্যায় পড়েন। দু জায়গার ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন—এখন তারা কোথায় যাবেন? কীভাবে আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করবেন? পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হতে থাকে।
দুই রাজ্যের পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়।
সিদ্ধান্ত হয়—চন্দনেশ্বর থেকে বাঙালি ব্যবসায়ীদের দোকান তুলে নেওয়ার ডেডলাইন আপাতত স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দিঘায় যে সমস্ত ওড়িশার ব্যবসায়ীরা দোকান চালাচ্ছিলেন এবং রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য যাদের দোকান সরাতে হয়েছে, তাদের অন্যত্র দোকান বসানোর ব্যবস্থা করবে বাংলার প্রশাসন।





