নদিয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা শ্যামল বোস, ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে শান্তিপুরের বুকে একের পর এক তৈরি করে যাচ্ছেন ভলিবলের খেলোয়াড়। দেশের তাবড় তাবড় ভলিবল খেলোয়াড়রা বেশিরভাগই তৈরি হয়েছেন শ্যামলদার হাত ধরে। ও প্রজন্ম থেকে এ প্রজন্ম সকলেরই প্রিয় শ্যামলদা। এদিন তিনি শান্তিপুরের মাঠে এক ভলিবল খেলার আয়োজন করার পাশাপাশি তার হাতে তৈরি প্রাক্তন ভলিবল খেলোয়াড়দের একত্রিত করেন। প্রাক্তন খেলোয়াড়দের দিয়ে একটি ভলিবলের ম্যাচ আয়োজন করার। তবে কর্মব্যস্ততার চাপে অনেকেই তার আমন্ত্রণে ইচ্ছে থাকলে উপস্থিত হতে পারেনি বলে জানান তিনি। তবুও এসেছিলেন এদিন বেশ কয়েকজন পুরনো ভলি খেলোয়াড়েরা।
advertisement
আরও পড়ুন: বিশ্বভারতীতে ‘লাইট অ্যান্ড সাউন্ড’ শো, কবে থেকে শুরু জানেন?
শ্যামলদার হাতেই তৈরি অভিজ্ঞ ভলিবল খেলোয়াড় সীমা দে জানান, আশির দশকে আমি সাধারণত পুরুষদের সঙ্গে ভলিবল খেলতাম। এখন একটাই কথা বলব যে বর্তমানে যারা খেলছেন তাদের নিজস্ব আগ্রহ থাকতে হবে শ্যামলদার মতো অনেক লোক আছে যারা সঙ্গে থাকবে কিন্তু শ্যামল তাদের সঙ্গে ইন্ধন যোগানোর মতো খেলোয়াড় দরকার পড়বে। দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত কিছু কাজ করে বিশেষ করে মোবাইল ঘাটাঘাটির পরে কিছুটা সময় খেলায় মনোনিবেশ করলে তা হবে না। খেলার মত খেলতে হবে। তবে তোমার জায়গা আছে। এখন বরং স্কোপ বেড়েছে। খেলাধুলায় বিভিন্ন কোটায় বহু চাকরির রাস্তা খুলেছে মেয়েদের জন্য বিশেষ করে। সুতরাং মন দিয়ে খেলাটা খেললে আজও রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সকলের জন্য।
আরও পড়ুন: সাতসকালে মাতলা নদীতে ভেসে উঠল… কে ওটা? সামনে গিয়ে হাড়হিম হয়ে গেল গোটা গ্রামের
তবে এ বিষয়ে উল্টো কথা বললেন ভ্রমর দত্ত, তিনি জানান, শ্যামলদার হাত ধরেই শান্তিপুর স্পোর্টিংয়ে আমার আসা। আগে খেলার মাধ্যমে একাধিক সরকারি চাকরি পাওয়া যেত বিশেষ করে রেলের ক্ষেত্রে। সে কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি টার্গেট থাকতো তবে এখন বাচ্চাদের মত সেই টার্গেটটা আর নেই। হয়তো আমরা বাচ্চাদের শেখায় খেলাধুলা করলে শরীর ভাল থাকবে মন ভাল থাকবে কিন্তু প্রাথমিকভাবে যেটা দরকার যে একটি টার্গেট, সেই টার্গেট টা এখন আর নেই। সরকারি উদাসীনতাও রয়েছে এই বিষয়ে। খেলাধুলা করতে গেলে বাচ্চাদের তার বাবা মায়েরাই বলছেন যেতে না বেকার হাত পা ভেঙে কোন লাভ নেই। বরং ক্রিকেট খেললে সামনে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ভারতীয় দলে চান্স পাওয়ার সুযোগ। কিন্তু ভলিবল খেলে কি হবে খুব বেশিদূর যাওয়া যাবে কলকাতার মাঠে। তাই সরকারের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও রয়েছে উদাসীনতার মনোভাব।





