সিরিয়াল, সিনেমা, খেলা, সবই এখন হাতের মুঠোয়। ফলে টিভি সারাইয়ের প্রয়োজন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুরের স্বপন রানার জীবনের গল্প সেই পরিবর্তনেরই বাস্তব ছবি। বহু বছর ধরে রেডিও সারাই করেই সংসার চালিয়েছেন তিনি। একসময় রেডিও ছিল ঘরে ঘরে। খবর, গান, নাটক-সবকিছুর ভরসা ছিল রেডিও। তখন স্বপনের দোকানে কাজের অভাব ছিল না। পরে সময় বদলায়। রেডিওর জায়গা নেয় টেলিভিশন। স্বপনও বদলান নিজেকে। রেডিও ছেড়ে টিভি সারাই শুরু করেন।
advertisement
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার লাল মাটিতে এবার সোনার ফসল! রঘুনাথপুরে গবেষণার ম্যাজিকে চাষিদের ভাগ্যে আসছে আমূল বদল
সেই সময়ও ভালই চলত দোকান। এলাকার মানুষ ভরসা করতেন তাঁর ওপর। তাঁর অভিজ্ঞ হাতেই খারাপ টিভি ভাল হয়ে বাড়ি ফিরত। কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি একেবারেই বদলে গিয়েছে। সাধারণ টিভির জায়গা নিয়েছে স্মার্ট টিভি। এই নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলানো সহজ নয়। স্মার্ট টিভির সমস্যাগুলি অনেকটাই জটিল। অনেক ক্ষেত্রে সারাইয়ের বদলে টিভি বদলে দেন ক্রেতারা। ফলে স্বপনদের মত পুরনো কারিগরদের আর তেমন ডাকা পড়ে না। তারওপর স্মার্ট টিভিকেও বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে স্মার্টফোন। এখন আলাদা করে টিভি চালানোর প্রয়োজনই বোধ করেন না অনেকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
মোবাইলেই দেখা যায় সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, খেলা। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ নিয়ে দিশেহারা স্বপন রানা। আয় কমেছে। দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা আসে না বললেই চলে। দিনের পর দিন বসে থাকতে হয়। নতুন করে কীভাবে নিজেকে বদলাবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। বয়স বাড়ছে। নতুন প্রযুক্তি শেখাও সহজ নয়। তবুও আশা ছাড়তে চান না তিনি। চান যদি কোনওভাবে এই পেশাটুকু টিকে থাকে। স্বপনের মত আরও অনেক কারিগরের জীবন আজ একই অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের জরুরি এই পেশা।





