সাহিত্য যেন তাদের কাছে ভয়ের বিষয় না হয়ে আনন্দের হয়ে ওঠে, সেই চেষ্টাই করে চলেছেন তিনি। পেশায় তিনি মহানগর নেতাজি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাহিত্যের প্রতি গভীর টান অনুভব করেন শঙ্খশুভ্র বাবু। সাহিত্যের প্রথম অনুপ্রেরণা পেয়েছেন নিজের বাবার কাছ থেকে। ছোটবেলায় বাবার মুখে কবিতা, গল্প আর ছড়া শুনেই সাহিত্যের জগতে হাতেখড়ি। শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে ওঠে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে আধুনিক সভ্যতায় বেড়ে ওঠা ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ। তিনি লক্ষ্য করেন, নতুন প্রজন্ম ক্রমেই বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন তাঁকে ব্যথিত করে। তখন থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন, কীভাবে আধুনিক প্রজন্মকে আবার সাহিত্যের দিকে টেনে আনা যায়।
advertisement
এই ভাবনা থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের ওই কবি অনবরত চেষ্টা করেছেন আধুনিক ছেলে-মেয়েরা ঠিক কী ধরনের লেখা পছন্দ করে। তাদের ভাষা, রুচি ও ভাবনার সঙ্গে মিল রেখে লেখার ধরন বদলেছেন। গুরুগম্ভীর শব্দের বদলে ব্যবহার করছেন সহজ, হাস্যরসাত্মক ও প্রাণবন্ত ভাষা। তাঁর লেখায় রয়েছে ছন্দ, কল্পনা আর জীবনের ছোট ছোট আনন্দের কথা। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর ছড়ার বই ‘ট্রেন ছুটেছে কু ঝিক ঝিক’ ইতিমধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। শিশুদের মুখে মুখে ফিরছে সেই ছড়ার লাইন। এই সাফল্য তাঁকে আরও উৎসাহিত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, ছোটবেলা থেকেই যদি সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা তৈরি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শঙ্খশুভ্র পাত্রের ঝুলিতে বর্তমানে রয়েছে ১০টি কাব্যগ্রন্থ। কবিতা, ছড়া ও মুক্ত গদ্য—সব ক্ষেত্রেই তিনি সমানভাবে সক্রিয়। শুধু বাংলা নয়, ওপার বাংলার বিভিন্ন পত্র-পত্রিকাতেও নিয়মিত তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। এমনকি আমেরিকার কিছু পত্রিকাতেও তিনি লেখালেখি করছেন। দেশ-বিদেশের পাঠকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর সাহিত্যকর্ম। এত কিছুর মধ্যেও তাঁর লক্ষ্য একটাই। আধুনিক সভ্যতার ছেলে-মেয়েদের সাহিত্যের দিকে ফিরিয়ে আনা। ডিজিটাল যুগের মাঝেই যেন তারা খুঁজে পায় বইয়ের আনন্দ, কল্পনার ডানা আর মানবিক চিন্তার আলো—এই স্বপ্ন নিয়েই আজও কলম চালিয়ে যাচ্ছেন উপকূলীয় জেলার এই প্রবীণ কবি।





