সোনা ও রুপোর দাম এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে আপাতত কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নতুন গয়নার অর্ডার নেই। পুরনো গয়নাও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে কাজ না থাকার সমস্যায় পড়েছেন স্বর্ণশিল্পীরা। অনেক কারিগরই দিনের পর দিন বসে থাকছেন। দোকানের ভিতরে যে জায়গায় একসময় সারি সারি গয়না সাজানো থাকত, সেখানে আজ শুধুই ফাঁকা তাক। কাজ না থাকায় বহু স্বর্ণশিল্পী এখন বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্বর্ণ শিল্পীদের পরিবারে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। সংসার চালানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে তাঁদের কাছে।
advertisement
শুধু স্বর্ণশিল্পী নন, সংকটে পড়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও। পটাশপুরের খড়াই বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অলোক কামিল্যা জানান, ” গত ৪০ বছর ধরে এই ব্যবসা চলছে, কিন্তু এমন খারাপ পরিস্থিতি কোনও বছর দেখিনি। দোকানে একেবারেই ক্রেতা নেই। আগে দোকান ভর্তি গয়না থাকত। এখন প্রায় শূন্য। কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, অনেক কর্মীকেই দোকানে আসতে মানা করতে হয়েছে। তাঁরাও সমস্যায় পড়েছেন।”
এক সময় এই কাজ করেই স্বর্ণশিল্পী থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করতেন। পরিবারে ছিল আর্থিক স্বচ্ছলতা। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসারের খরচ সবই চলত স্বর্ণশিল্পের আয় থেকে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকার অনেক স্বর্ণশিল্পীই আছেন, যাঁদের বিকল্প কোনও পেশা নেই। তাঁরা চাষবাসের কাজেও তেমনভাবে অভ্যস্ত নন। শিক্ষাগত যোগ্যতাও সীমিত। ফলে অন্য কোনও কাজ খুঁজে নেওয়ার সুযোগও নেই। এই অবস্থায় বাড়িতে বসে বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। মানসিক দুশ্চিন্তাও বাড়ছে প্রতিদিন। স্বর্ণশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা এখন একটাই আশায় দিন গুনছেন, কবে কমবে সোনার দাম? কবে ফিরবে পুরনো দিনের ক্রেতারা!





