পূর্ব বর্ধমানের একাধিক জমিতে দেখা যাচ্ছে একই ধরনের চিত্র। একাংশ কৃষকের নাড়া পোড়ানোর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন অন্যান্য কৃষকেরাও। তারা চাইছেন যারা নাড়া পোড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে।
advertisement
শষ্য গোলা পূর্ব বর্ধমানে এখন অধিকাংশ জমির দিকে তাকালে শুধু আগুনের শিখা। ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরই জমিতে থাকা নাড়া এবং অবশিষ্ট খড় পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিঘার পর বিঘার জমিতেই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতন করা হলেও গুরুত্ব দিচ্ছেন না একাংশ কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন ধোয়া থেকে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তেমনই জমিতে থাকা জমির জন্য উপকারী অণুজীবীর মৃত্যু হচ্ছে ফলে কমছে জমির উর্বরতা, ক্ষতি হচ্ছে জমির।
বর্তমান সময়ে আধুনিক ধান কাটা মেশিনের দৌলতে খুব অল্প সময়ে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। আর ধান কাটার পরে জমিতে থাকা নাড়া এবং অবশিষ্ট খড় পড়ে থাকছে জমিতেই। পরে সেই গুলিকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমান ১, বর্ধমান ২, ভাতার-সহ একাধিক এলাকায় সেই একই ছবি। কেন কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন, প্রশ্ন গ্রামবাসীদের।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
বর্ধমান ২ ব্লকের সোনাপালাসী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, মেশিনে ধান কাটার পরে অবশিষ্ট পড়ে থাকছে সেইগুলি বাড়িতে না নিয়ে গিয়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। যদি সেইগুলি দিয়ে জৈব সার করত তাহলে কাজে লাগতো। পাশাপাশি ধোঁয়ার থেকে যারা শ্বাস কষ্টের রোগী আছে তাদের অনেকের সমস্যা হচ্ছে এই দূষণের ফলে। এই বিষয়ে চিন্তিত সমাজসেবীরাও।
সমাজসেবী সন্দীপন সরকার বলেন, কৃষকদের মধ্যে অনেক সচেতনার অভাব রয়েছে, জমিতে আগুন দেওয়ার ফলে কৃষকদের বন্ধু অনুজীবীগুলির মৃত্যু হয় এতে চাষের ক্ষতি হচ্ছে। পূর্বে নাড়া পোড়াতে গিয়ে এক চাষির মৃত্যু হয়েছে, আর এক জায়গায় আগুনে পুড়ে একচাষি আহত হয়েছেন। তাও সচেতন হচ্ছে না কৃষকরা। সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকেও প্রচারে নামতে হবে।
জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধক্ষ্য মেহেবুব মন্ডল বলেন, এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে সচেতন করা হচ্ছে কিন্তু নজর এড়িয়ে অনেক কৃষকই এখনও নাড়া পোড়াচ্ছেন। পুলিশকে দিয়ে যদি আইনগত ভাবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে এইগুলি কমবে। অনেকে বলছে রাতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে কিন্তু জমি কার? সেই জমির মালিককে ধরে শাস্তি দিলে অনেকটা কমবে এই নাড়া পোড়া।
পূর্ব বর্ধমানের অধিকাংশ জমি জুড়ে একই চিত্র। বিঘার পর বিঘা জমিতে চলছে নাড়া পোড়া মাঝেমধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনাও। কবে কমবে এই নাড়া পোড়া? প্রশাসনের কাজ কি শুধুমাত্র সচেতনতামূলক প্রচার করা? কেন নেওয়া হচ্ছে না কড়া পদক্ষেপ? প্রশ্ন একাংশ গ্রামবাসীদের।





