তিনি নিজেও ছোটবেলা থেকে লড়াই করে এসেছেন পড়াশোনার জন্য। ঘুরেছেন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। আর্থিক অভাবে প্রায় দু’বছর ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা। পরে মা-বাবার অনুপ্রেরণায় শেষ করেন নিজের পড়াশোনা এবং যোগদান করে শিক্ষকতায়। তখন থেকেই তিনি ঠিক করেছিলেন কিছু করবেন দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য। প্রথমে কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলেন সেলিমাবাদ স্কুল। সেখান থেকে মাসের শেষে যা পেতেন তা দিয়েই কোন রকমে চলতে সংসার। ছেলে মেয়েদের প্রতি অগাধ ভালবাসা থাকলেও আর্থিক অভাবে তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল সেই স্কুল। পরে তিনি যোগদান করেন জামালপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে। সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পর শুরু হয় তার অন্য লড়াই।
advertisement
আরও পড়ুন: নোনা মাটির দেশে চিনা ফুলের ম্যাজিক! কাকদ্বীপের মেলায় ‘ক্যামেলিয়া’ দেখতে মানুষের ঢল
তিনি উদ্যোগ নেন জামালপুরের পাড়াতল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম বসন্তপুরে একটি স্কুল তৈরি করার। কারণ একদা এই গ্রামের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা লাভের ভরসা বলতে ছিল শুধুমাত্র একটি প্রাইমারি স্কুল। আশেপাশে কোন জুনিয়র হাইস্কুল ছিল না। তাই লেখাপড়ার জন্য বসন্তপুর ও সংলগ্ন বেত্রাগড়, সজিপুর প্রভৃতি গ্রামের ছেলে মেয়েদের ৫ কিলোমিটার দূরে জামালপুর বা সেলিমাবাদ হাইস্কুলে যেতে হত। এই দূরত্বই স্কুল বিমুখ করে তুলছিল এলাকার দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের। বসন্তপুরে স্কুল গড়ে তোলার জন্য ২০১০ সাল থেকে কাজ শুরু করেন দ্বিজেন্দ্র বাবু। অবশেষে ২০১৪ সালে মেলে অনুমতি। প্রথম একটি স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের ঘর থেকে শুরু হয় পথ চলা। পরে একটি সরকারি জায়গায় নিজের পেনশনের টাকা থেকে একটি চালা ঘর তৈরি করে শুরু করেন স্কুল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তারপর ধীরে ধীরে সরকারি অনুমোদনে স্কুলের স্থায়ী ভবন গড়ে ওঠে। কিন্তু এখানেই তার লড়াই শেষ নয়। স্কুলের জন্য মেলেনি কোনও স্থায়ী শিক্ষক। প্রথম দিকে কয়েকজন গেস্ট টিচার থাকলেও তারা একসময় পর অবসর নিয়েছেন। পরে এলাকারই পাঁচ উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর। বর্তমানে একজন স্থায়ী শিক্ষক থাকলেও এখনও স্কুলের ভরসা দ্বিজেন্দ্র বাবু ও তাঁর ৫ যোদ্ধা। কিন্তু প্রশ্ন একটাই, আগামী দিনে এই লড়াইয়ের হাল ধরবে কে? উত্তর হয়ত আজ অজানা, কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন দ্বিজেন্দ্র বাবু। ৭৭ বছর বয়সেও তিনি মাঠে আছেন অপরাজিত ব্যাটসম্যানের মতো। কারণ তাঁর কাছে শিক্ষার প্রসার কেবল পেশা নয়, বরং এক অঙ্গীকার।





