গতকাল দুপুর দুটো নাগাদ কৃষ্ণনগর শহরের মানিকপাড়া এলাকায় বাড়ির দোতলায় উঠে ঈশিতা মল্লিক নামে ওই কলেজ ছাত্রীকে গুলি করে খুন করে দেশরাজ সিং নামে ওই যুবক৷ তার পর প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে চললেও এখনও খোঁজ নেই দেশরাজের৷
কাঁচরাপাড়ার জেটিয়া থানা এলাকার ধর্মপুরে ভাড়া বাড়িতে থাকত দেশরাজ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল ঈশিতাকে খুনের পর ধর্মপুরের বেশ কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে আশ্রয় চেয়েছিল দেশরাজ৷ যদিও গোটা ঘটনা শুনে কেউই তাঁকে আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি৷ এর পর থেকে অভিযুক্ত দেশরাজের আর কোনও খোঁজ পায়নি পুলিশ৷ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, খুনের পর বাড়ি থেকে হেঁটেই বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে দেশরাজকে৷
advertisement
বয়সে প্রায় পাঁচ বছরের ফারাক থাকলেও একই কাঁচরাপাড়ার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে একই ক্লাসে পড়ত ঈশিতা এবং দেশরাজ৷ সেই সূত্রেই দু জনের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে৷ ২০২৩ সালে দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পাশ করে ঈশিতা৷ কিন্তু ২০২২-২৩ সালে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল দেশরাজকে৷ এর পর থেকে ছোটখাটো কাজ করত সে৷
আরও পড়ুন: ‘কাকিমা, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে…’, খুনের পর ঈশিতার মাকে কী বলতে চেয়েছিল দেশরাজ?
পুলিশ জানতে পেরেছে, স্কুলেও সহপাঠী এবং অন্যান্য পড়ুয়াদের মারধোরের মতো অভিযোগ ছিল দেশরাজের বিরুদ্ধে৷ স্কুল থেকে বহিষ্কারের পর দেশরাজ ছোটখাটো অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা৷ সেই সূত্রেই তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷
দেবরাজের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতেই ঈশিতাকে তাঁর পরিবার স্কুলের পড়াশোনার শেষ হওয়ার পর কৃষ্ণনগর থেকে কাঁচরাপাড়ায় নিয়ে চলে আসে বলে খবর৷ ওই ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেও দিত না তাঁর পরিবার৷ ভুবনেশ্বরের আইন কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন ছাত্রী৷ আজই তাঁর ভুবনেশ্বর রওনা হওয়ার কথা ছিল৷ তার আগেই এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটে গেল৷
