বর্ধমানের দাবাং ওসি। বর্ধমান বীরহাটা সাব ট্রাফিক গার্ডের ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্রাফিক আইন ভাঙলে তাঁর কাছে নিস্তার নেই। হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেল চালানো তিনি বরদাস্ত করতে পারেন না। পথ আটকে বলেন, নিজের ও আপনজনদের কথা ভেবে হেলমেট পড়ুন। বিকট শব্দে ছোটা মোটর সাইকেল চলাচল বন্ধ করিয়েছেন তিনি। নিয়ম ভাঙলে টোটো চালকদের কাছে তিনি আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠেন। বাসিন্দা বলেন, শহরের যান চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই দাবাং অফিসারই সেরা।
advertisement
আরও পড়ুন Indian Railways: অবিশ্বাস্য! টিকিট চেকিং করে রেলের আয় ১১৬% বৃদ্ধি! সেরা পারফরম্যান্স মালদা ডিভিশনে
সেই ‘দাবাং’ ওসি চিন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশের হয়ে দেখা দিলেন অন্য ভূমিকায়। ধরা পড়ল তাঁর মানবিক মুখ। বর্ধমানের বাদামতলা মোড়ে রিক্সা চালক, দরিদ্র বাসিন্দাদের হাতে তুলে দিলেন উলের টুপি, মিষ্টির প্যাকেট, জলের বোতল। বললেন, শীতটা জাঁকিয়ে পড়েছে। এই সময় মাথা কান ঢাকা থাকলে স্বস্তি মেলে। অথচ অনেকেরই গরম পোশাক কেনার সামর্থ নেই। তাঁদের কথা ভেবেই এই উপহার।
বড়দিনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সান্তাক্লজ। বাস চালক থেকে শুরু করে পথ চলতি বাসিন্দা অনেকের হাতেই কেক তুলে দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে পথ দিয়েছিলেন পথ নিরাপত্তার সচেতনতার বার্তা। বড়দিনের আনন্দ যাতে দরিদ্ররাও অনুভব করতে পারে সেই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। মনে মনে তাঁকে কুর্নিশ জানিয়েছিলেন অনেকেই। আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে তিনি পেলেন অগণিত দরিদ্র মানুষের আশীর্বাদ, ভালবাসা।
ডিউটির সময় কঠিন কঠোর মুখের আড়ালে তাঁর মানবিক মনের ঠিকানা পেয়েছেন অনেকেই। বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের হাত ধরে রাস্তা পার করে দেন তিনি। পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট কার্ড আনতে ভুলে গেছেন। খবর পাওয়া মাত্র বাড়ি থেকে তা এনে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছেন বর্ধমানের এই ‘দাবাং’ পুলিশ অফিসার।
