সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমটি ল্যাবরেটরি বিভাগের কর্মী জ্যোর্তিময় সামন্ত। তিনি গুসকরা শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংহতিপল্লী এলাকার বাসিন্দা। গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ৩০ ডিসেম্বর তিনি গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
advertisement
জ্যোর্তিময় সামন্ত জানান, ঘটনার দিন সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর মোবাইলে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ইউপিআই-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আপডেট না থাকায় তাঁর বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। বিষয়টি ঠিক করতে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো একটি বিশেষ অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হয়। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করতেই তাঁকে পুলিশ পাঠিয়ে গ্রেফতার করার হুমকি দেওয়া হয়।
আতঙ্কের মধ্যে পড়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অ্যাপটি ডাউনলোড করেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলে একের পর এক এসএমএস আসে। সেই এসএমএস থেকেই তিনি জানতে পারেন, তাঁর দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দফায় দফায় টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই চার দফায় ২৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়। কিছু সময়ের জন্য তাঁর ফোন বন্ধও হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ East Bardhaman News: ব্যাঙ্কে যাওয়ার পথেই মৃত্যু! সমুদ্রগড়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল কৃষকের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা কীভাবে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিল এবং টাকা কোন অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলার এক সাইবার বিশেষজ্ঞ আধিকারিক জানান, ভারতীয় আইনে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামে কোনও বিষয় নেই। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো .apk ফাইল ডাউনলোড করিয়েই মূলত ফোন হ্যাক করা হয়। এই ধরনের ফোন এলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় জানানোই একমাত্র নিরাপদ পথ বলে তিনি সতর্ক করেন।






