গত বুধবার বারাসতের কাজিপাড়া এলাকার ওই নার্সিংহোমের ছাদ থেকে প্রথমে কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়৷ প্রথমে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে ধরে নিয়েই তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷ তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই কিশোরী উত্তর চব্বিশ পরগণার দেগঙ্গার বাসুদেবপুরের বাসিন্দা৷ বাড়িতে তার মা এবং এক দাদা রয়েছে৷ বারাসতের ওই নার্সিংহোমের মালিক চিকিৎসক রেজ্জাক মোল্লার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করত সে৷
advertisement
আরও পড়ুন: বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথেই সব শেষ! পুরুলিয়ায় টোটোয় ধাক্কা বেপরোয়া লরির, মৃত ৫
কিশোরীর দেহ উদ্ধারের কথা জানাজানি হওয়ার পর গতকাল ওই নার্সিংহোমের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁদের অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমে অতীতেও একই ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে৷ নার্সিং হোমের মালিক রেজ্জাক মোল্লার গ্রেফতারির দাবি করেন স্থানীয়রা৷ তাঁদের অভিযোগ, গ্রাম থেকে গরিব মেয়েদের নিয়ে এসে ওই নার্সিংহোমে অবৈধ কাজ করাতে বাধ্য করা হত৷ নিহত কিশোরীর মা নিজেও রেজ্জাক মোল্লা নামে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বারাসত থানায় অভিযোগ দায়ের করেন৷ তাঁরও অভিযোগ, শারীরিক নির্যাতন করেই তাঁর মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়৷ এর পরেই ওই চিকিৎসক সহ দু জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷
যদিও গ্রেফতারির আগে রেজ্জাক মোল্লা নামে অভিযুক্ত চিকিৎসক দাবি করেন, মেয়েটি এখানে থেকেই পড়াশোনা করত৷ ওরা খুবই গরিব বলে ওর মা আমাদের এখানে রেখে গিয়েছিল৷ নির্যাতন সহ যা যা অভিযোগ উঠছে পুলিশ তদন্ত করে দেখুক৷ আমি নিজেই তো পুলিশকে খবর দিয়েছি৷ যদি আমি নিজে অথবা অন্য কেউ অভিযুক্ত হন তাহলে তার অবশ্যই শাস্তি হবে৷
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই কিশোরীর দেহের গতকালই ময়নাতদন্ত হয়েছে৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে৷ আজ অভিযুক্তদের বারাসত আদালতে পেশ করা হবে৷
