পরিবেশ আদালতে মামলা করেছিলেন আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় তিনি বলেন, “প্রশাসন ঠিক কতটা কাজ করেছে তার পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা একটি দল গঠনের আবেদন করেছি আদালতে। চলতি বছর ২৬ মার্চ তা নিয়ে নির্দেশ দিতে পারেন মহামান্য বিচারক।” তারাপীঠে দূষণ নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। তার কিছুটা মেনে নেওয়া হলেও এখনও অনেক কাজ তারাপীঠে হয়নি বলে অভিযোগ জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের। ভার্চুয়ালি বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে জেলাশাসক বৈঠক করেন, মূলত দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে বেশি নজর দেওয়া হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। তরল ও কঠিন বর্জ্য নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়।
advertisement
প্রসঙ্গত তারাপীঠের মতন তীর্থক্ষেত্রে মোট ৩২টি হোটেলের তরল বর্জ্য পদার্থ সরাসরি দ্বারকার জলে পড়ত। বৈঠকে জানা যায়, বর্তমানে ২৮টি হোটেল পরিশোধন করে তারপর দ্বারকার জল ফেলছে। বাকি চারটি হোটেলকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। এর পাশাপাশি তারাপীঠ মন্দিরে প্রতিদিন প্রায় কয়েক কেজি করে ফুল জড়ো হয়, আর সেই পরিমাণ পুজোর ফুল মালাকে পরিশোধন করতে হবে দাবি ছিল জয়দীপের। এরপরেই গত তিনবছর ধরে একটি জায়গায় ফুল মালা বর্জ্য সংগ্রহ হয়।
সেখান থেকে একটি বেসরকারি সংস্থা সেগুলি থেকে জৈব সার প্রস্তুত করে। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরে সঙ্গে কথা বলে স্থায়ীভাবে তা করার প্রস্তাব দেয় বীরভূম জেলা প্রশাসন। অভিযোগ ছিল, তারাপীঠ জুড়ে প্লাস্টিক ব্যবহার ও তার বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে। এজন্য রামপুরহাট পুরসভার অর্ন্তভুক্ত এলাকায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য টেন্ডার শেষে তা তৈরির জন্য ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও তারাপীঠ লাগোয়া রামপুরহাট ১ ও ২ ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতে নিজস্ব সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য বর্জ্য পদার্থ ফেলার জন্য একটি মাঠ স্থায়ীভাবে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ আলাদা করে বর্জ্য নিয়ে পদক্ষেপ করবে। তা ছাড়াও তারাপীঠ মহাশ্মশানকে দূষণমুক্ত করতে বৈদ্যুতিক চুল্লি ব্যবহারের নির্দেশ ছিল বহু বছর আগে, যদিও বহুদিন আগে থেকেই বৈদ্যুতিক চুল্লি শুরু হয়ে গিয়েছে।
