গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, একের পর একে জেলায় তদন্তকারী দল যাচ্ছে, বয়ান রেকর্ড করছে। সেখানে নলহাটির একটি খুনের ঘটনায় এত দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়ায় সিবিআইয়ের তৎপরতা অন্য মাত্রা নিয়েছে। ইতিমধ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) তদন্তে নদীয়ার চাপড়াতে চারজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)।
আরও পড়ুন : আচমকাই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অফিসে সিবিআই হানা, বড় রহস্য ফাঁস! অবাক সকলে...
advertisement
বৃহস্পতিবারেও কলকাতা ও একাধিক জেলায় তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন গোয়েন্দারা। কলকাতার নারকেলডাঙা থানা এলাকার বাসিন্দা নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের খুনের ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সেন্ট্রাল জেলে গিয়ে চার অভিযুক্তের বয়ান নেন সিবিআই তদন্তকারীরা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী হারাধন অধিকারী খুনের ঘটনার ইনভেস্টিগেশন অফিসার সুজয় ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় সল্টলেকের সিবিআই অফিস সিজিও কমপ্লেক্স এ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বীরভূমের রামপুরহাট জেলা আদালতে আজ সিবিআই বিজেপি কর্মী মনোজ জয়সোয়াল খুনের ঘটনায় চার্জশিট দিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। বিধানসভা রেজাল্টের পর ১৪ মে নলহাটির বাসিন্দা মনোজ জয়সোয়ালকে দুষ্কৃতীরা পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে নলহাটি থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে প্রধান অভিযুক্ত মাইনুদ্দিন শেখ, আজিমুদ্দিন শেখ, ইমরান শেখ, ফারুক আলি ও জাহেদী হুসাইন-সহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। এর মধ্যে ফারুক ও জাহেদ ছাড়া বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। গত সপ্তাহেই ধৃত তিনজনের মধ্যে আজিমুদ্দিন অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়ে যান। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁকে শর্তধীন জামিন দেয় আদালত।
ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় তদন্তে নেমে বীরভূমের নলহাটি যায় সিবিআই -এর স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম, বিশেষ তদন্তকারী দল। কথা বলেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে। নলহাটি থানার তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে মামলার বিস্তারিত নেন সিবিআই অধিকারিরা। সিবিআই জানতে পারেন অন্যতম অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন।
আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বাকি দুই অভিযুক্তরাও জামিনের আবেদন জানাতে চলেছেন। সেই মোতাবেক আজ সিবিআই তড়িঘড়ি জেলা আদালতে চার্জশিট দিয়ে দেন। চার্জাশিটে সিবিআই জানিয়েছে, 'তদন্ত একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের জামিন দিলে তদন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হবে. অভিযুক্তরা বাইরে বেড়িয়ে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। ধৃতদের জেরা করে পলাতক অভিযুক্তদের ধরা প্রয়োজন। খুনের 'মোটিভ', কার নির্দেশে খুন, আরও কারা কারা খুনের নেপথ্যে রয়েছে জানতে অভিযুক্তদের নিজেদের কাস্টডিতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ দরকার।' আদালত এরপর ধৃত দু'জনের জামিনের আবেদন খারিজ করে সিবিআই-এর চার্জশিট গ্রহণ করে।
সুকান্ত মুখোপাধ্যায়
