দেওয়ালচিত্রগুলিতে কখনও দেখা যাচ্ছে শিকারযাত্রা, কখনও ধান কাটার দৃশ্য, আবার কোথাও ফুটে উঠছে আদিবাসী নৃত্য, গান ও প্রাকৃতিক উপাসনার প্রতীক। উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে এসব চিত্র শুধু সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা সংস্কৃতির গল্পও বলছে। গ্রামবাসীদের মতে, এটি তাঁদের বহু পুরনো রীতি। বর্ষবরণের আগে ঘরদোর পরিষ্কার করে দেওয়ালে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, মাটি ও নতুন বছরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

advertisement

আরও পড়ুন: বছরের প্রথম দিনেই লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়াল দলছুট দাঁতাল, ঘরবন্দি নববর্ষ এলাকাবাসীর! ভিডিও দেখে সমাজমাধ্যমে হইচই

বিশেষ করে বাদনা পরবকে কেন্দ্র করেই এই প্রস্তুতির মূল পর্ব শুরু হয়। এই উৎসব আদিবাসী সমাজে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় নানা আচার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অনুষ্ঠিত হয়। দেওয়ালচিত্র সেই উৎসবেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রঙিন দেওয়ালচিত্রে সজ্জিত শিউলিবনা গ্রাম এখন পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শুশুনিয়া পাহাড়ে বেড়াতে আসা বহু পর্যটক এই গ্রাম দেখতে আসছেন।

advertisement

View More

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার কাছ থেকে আদিবাসী শিল্পকর্মের সূক্ষ্মতা উপভোগ করছেন। পর্যটকদের মতে, আধুনিকতার ভিড়ে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও জীবন্ত লোকসংস্কৃতির প্রকাশ বিরল। বর্ষবরণের আনন্দে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে শিউলিবোনার এই রঙিন উদ্যোগ আজ শুধু একটি গ্রাম সাজানোর প্রচেষ্টা নয়, বরং বাঁকুড়ার লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

advertisement