স্বামী বিবেকানন্দের লেখা ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।’ বা ভূপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গান ‘মানুষ মানুষের জন্য’ মনে আছে! মনে থাকলেও আমরা কতজনই বা বাস্তব জীবনে করে দেখাতে পারি! কিন্তু পাঁশকুড়ার যুবক পার্থপ্রতিম পতি তাই করে দেখাচ্ছেন। তার জীবনের মূল মন্ত্র যেন ‘মানুষ মানুষের জন্য।’ গৃহ শিক্ষকতা করেই নিজের সংসার চালান পার্থপ্রতিম পতি। কিন্তু তা সত্বেও পাঁশকুড়া স্টেশন সংলগ রেল লাইনের ধরে ঝুপড়িতে বাস করা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ঝুপড়ির অন্ধকারে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ব্রতী হয়েছেন তিনি।
advertisement
রেল লাইনের ধারে ঝুপড়িতে বাস করা পরিবারে দারিদ্রতা, যেখানে নিত্য সঙ্গী সেখানে পড়াশোনা করাটা বিলাসিতা। ফলে ঝুপড়িতে বাস করা পরিবারের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা শিক্ষা গ্রহণে স্কুলে যায় না। ঝুপড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের শিক্ষার মধ্যে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আনতে বিনে পয়সায় পড়ানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে ওই গৃহ শিক্ষক। শুধু পড়াশোনার দায়িত্ব নয় তাদের শিক্ষা সামগ্রী খাবার-দাবার এবং পোষাক পরিচ্ছদের দায়ভার গৃহ শিক্ষকের কাঁধে। এ বিষয়ে ওই গৃহ শিক্ষক জানান, ‘ঝুপড়ির অন্ধকারে বাস করা পরিবারের ছেলে মেয়েরা দারিদ্রতার কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে তাঁরা এই প্রচেষ্টা।’
বর্তমানে পাঁশকুড়া রেললাইনের ধারে ৫০ টি পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা সামগ্রী পোশাক পরিচ্ছদ ও খাবার দাবার পৌঁছে দিচ্ছে বেকার যুবক পার্থপ্রতিম। তাঁর এই কাজে সাহায্য করেছে বন্ধু-বান্ধব। রেললাইনের পাশে ঝুপড়িতে বাস করা পরিবারের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো সঙ্গী করে ঝুপড়ির অন্ধকার ঠেলে সমাজে মূল স্রোতে যাতে ফিরে আসে এটাই তাঁর লক্ষ্য।





